ছোট্ট ফিল এর স্মরণে, ২৫ বছর বয়সে আটকে যাওয়া ছেলেটি

তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সতীর্থরা আজও যেই নাম টি স্মরণ করে তার পুরো নাম ফিলিপ হিউজ, বন্ধুরা আদর করে ডাকতো ফিলি, হিউজি।

ফিলিপ জয়েল হিউজ, ৩০ নভেম্বর ১৯৮৮ সালের নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তর উপকূলের একটি ছোট্র শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন কৃষক, সে কলা চাষ করেন। দুই ভাই এবং এক বোনের ভেতর ফিল ছিলেন মধ্যম। খুব শান্ত মানুষ এই হিউজ। সবার খুব কাছের আদরের, বোনের কাছে হিরো। ক্রিকেট ছিল ফিল এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তাই তো মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০০৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার আগে নিউ সাউথ ওয়েলসের সাথে দুটি  সিজনের জন্য খেলেন এবং ​​বা-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে  উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিং করতেন।

ফিল হিউজ
পরিবারের সাথে ফিল

এই সব এখন শুধু ইতিহাস। ২০১৪ সালের জন্ম দিন এর ঠিক তিন দিন আগে (২৭ নভেম্বর) সবাইকে কাঁদিয়ে ছোট্ট ফিল চলে যায় না ফেরার দেশে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে!! এই হাহাকার টা যেন সবার থাকবে। বন্ধুদের কাছে খুব বেশি প্রিয় ছিল। হাসি মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ রাগ করতে পারতো না। সবাই তাকে ছোট্ট ফিলি বলে ডাকতো। তাইতো শেষ বিদায় দেবার সময় থেকে এখন ও সবাই ফিল কে মনে করে চোখের পানি আটকে রাখতে পারে না।

কি হয়েছিলো ঐ দিন

ফিল হিউজ
যেই মুহূর্তে ফিল এর বল লাগে, এবং পড়ে যায়

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা-শেফিল্ড শিল্ডের একটি ম্যাচে মঙ্গলবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিউ সাউথওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন হিউজ। ৬৩ রানে অপরাজিত থাকার সময় প্রতিপক্ষের বোলার শন অ্যাবোটের একটি বাউন্সারই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু। শন অ্যাবটের একটি বাউন্সার হুক করতে গিয়ে মারাত্মক এই চোট পান ফিল। মাথার পিছন দিকে কানের ঠিক নিচে বল লাগে, সাথে সাথে ছিঁড়ে যায় মাথায় রক্ত যাওয়ার প্রধান শিরাটা। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল ফিল। তারপর যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো। সেই পড়ে যাওয়া ফিল আর কখন দাঁড়াতে পারল না। হাসপাতালে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্র পাচার করা হয়। রাখা হয়েছিল কৃত্রিম কোমায়। সেই যে জ্ঞান হারালো আর ফিরলো না। মৃত্যুকে ঠেকানো গেলো না। ২৭-১১-২০১৪তে মারা গেলেন ফিলি। মৃত্যুর সময় হিউজের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা, বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন।

২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গের তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ২৬ টেস্টে ৩২.৬৫ গড়ে ১৫৩৫ রান করা এই ক্রিকেটারের আছে তিনটি সেঞ্চুরি আর সাতটি ফিফটি। অর্জনটা খুব ভালো ছিল। অভিষেক সিরিজেই ডারবানে পরপর দুটি সেঞ্চুরি করে দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন হিউজ। তবে ফর্মের  ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে অস্ট্রেলীয় দলের কখনোই নিয়মিত হতে পারেননি।  ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলা হিউজ ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে নির্বাচকদের বিবেচনায় ছিলেন। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের চোট তাঁর দলে ফেরা মোটামুটি নিশ্চিতই করে দিয়েছিল। অধিনায়ক মাইকেল এর সাথে সম্পর্কটা অনেক গাঢ় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মেই ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা শেষ অবধি তাঁকে নিয়ে গেল সব জাগতিক আশা-আকাঙ্খা আর প্রত্যাশা-প্রাপ্তির উর্ধ্বেই। এখন তাকে মনে করে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা। অধিনায়ক স্মিথ অ্যাশেজ খেলার সময় ৬৩ রান করার পর যেখানে হিউজ পড়ে গিয়েছিল সেখানে গিয়ে মাটিতে চুমু খেয়েছিল। এখন হয়তো তাদের ১০০ করলেও এতোটা উত্তেজিত লাগেনা যতটা লাগে ৬৩ রান করলে।

ফিল হিউজ
সতীর্থদের সাথে ফিল

ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

 

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, অস্ট্রেলিয়া

না, না, না। শান্তিতে ঘুমাও ফিলিপ হিউজ।

শচীন টেন্ডুলকার, ভারত

ফিলের মৃত্যুর খবরে অত্যন্ত দুঃখিত। ক্রিকেটের জন্য এটা খুব দুঃখের দিন। তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

মাহেলা জয়াবর্ধনে, শ্রীলঙ্কা

খুব খারাপ খবর। ফিলের আত্মার শান্তি কামনা করি। তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা রইল।

যুবরাজ সিং, ভারত

ফিল নেই! বিশ্বাস হচ্ছে না। ক্রিকেটের জন্য একটি কালো দিন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

এবি ডি ভিলিয়ার্স, দক্ষিণ আফ্রিকা

হৃদয় বিদারক! খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি দিন। ফিলিপ হিউজ,  আমরা তোমাকে মিস করবো। আমার প্রার্থনা ও ভাবনা তার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে রইল।

গ্রায়েম স্মিথ, দক্ষিণ আফ্রিকা

আমি খুবই শোকাহত ও বাকরুদ্ধ। তার পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদের জন্য প্রার্থনা রইল।

ম্যাথু হেডেন, অস্ট্রেলিয়া

সুখে থেকো ছোট ভাই…..সৃষ্টিকর্তা চিরদিন তোমাকে তার হাতের তালুতে রাখুক। হিউজের পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

ব্রেট লি, অস্ট্রেলিয়া

হিউজের চলে যাওয়ায় আমি নির্বাক।

শহীদ আফ্রিদি, পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের দুঃখজনক মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি।

ক্রিস গেইল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

শান্তিতে ঘুমাও ফিলিপ হিউজ। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। তোমাকে আমরা মিস করবো।

বিরাট কোহলি, ভারত

ফিলের মৃত্যুর খবরে শোকাহত এবং মর্মাহত। ক্রিকেটের জন্য খুবই বাজে একটি দিন। ঈশ্বর তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দিক।

ছবিতে ফিল(১৯৮৮-২০১৪ )

ফিল হিউজ
ছোটো বোন মেগোর সাথে ফিল

 

ফিল হিউজ
ছোটো ফিল বড়ো ভাই জেসন এর সাথে।

 

ফিল হিউজ
এগারো বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলে ফিল

 

ফিল হিউজ
২০০৭ এ সিডনিতে অভিষেক

 

ফিল হিউজ
টেস্ট অভিষেক ২০০৯ তে

 

ফিল হিউজ
২০১৩ তে ওডিআই তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে

 

ফিল হিউজ
২০১৪ সেই বল……………………………

 

ফিল হিউজ
শেষ বিদায় ফিল……

 

 

ক্রিকেট বিশ্ব মিস করেবে একজন ফিল কে। তার সেই হাটু গেরে মারা কাভার ড্রাইভগুলো। বেঁচে থাকো ফিল হিউজ সবার হৃদয়ে। পঁচিশ  বছরেই আটকে থাকুক তোমার তারুণ্য।

ছবি সংগ্রহঃ 
www.emergencypedia.com
www.dailytelegraph.com
www.theaustralian.com
www.Rediff.com

 

 

“দূর্বাঘাস” একটি দূর্বাঘাস এর আত্মকাহিনী

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
তাল,তমাল,কদম্ব,হিজল বেয়ে কুয়াশার মত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
আমার’ই বুক ছিঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকা চোরকাঁটার মত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
পথিকের পা পিষে মেঠোপথ ছেড়ে পিচঢালা রাস্তায় রত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
বেলকোনির ফুলেরটব থেকে খোলা মাঠে যত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
ঠাকুর-পূজো মন্ডপ ছেড়ে মসজিদ প্রার্থিত।

ফেইসবুক, আইডি হ্যাক, মিথ্যা হয়রানী আর কিছু মৃত্যু! কবে থামবে এসব?

ইদানীংকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা চোখে পরার মত সেটি হলো অমুকের নামে তমুক একটা ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলেছে, সেই আইডির মাধ্যমে আপত্তিকর স্ট্যাটাস, ছবি এবং হয়রানী মূলক কার্যক্রম করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের কয়েকটা বিশাল ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে যারা সাধারণত নারী,শিশু এবং মানুষের জাস্টিস ও হিউম্যানিটি নিয়ে কাজ করে, এককথায় অলাভজনক গ্রুপ গুলোতে মোটামুটি ৬৫% হেল্প চাওয়া হয় এই ফেইক আই ডি নিয়ে।
এর ভিকটিম ১০০% ই নারী।

সাধারণত এই সব আইডি বেশির ভাগই খুলে থাকেন ভিকিটিমের/নারীর পরিচিত কোন পুরুষ, প্রাক্তন প্রেমিক, প্রেমে ব্যর্থ হওয়া বালক এবং ফেইসবুকে লাইক, কমেন্ট ও জনপ্রিয়তা পিপাসী কিছু চতুর্থ লিঙ্গের পাবলিক। চতুর্থ লিঙ্গ মানে হলো তারাই আকাশ-বাতাস-পাহাড় পর্বত নাম দিয়ে যারা আইডি খোলেন।

আচ্ছা আপনারা আমাকে এখন পর্যন্ত এমন কেউ আছেন বলতে পারবেন যে, অমুক মেয়ে তমুক ছেলের নামে আই ডি খুলেছে? আরেহ্ ভাই উনারাতো উনাদের নিজের আসল নামেই আইডি খুলতে ভয় এবং অস্বস্তিতে ভুগেন, তাহলে আপনার নামে আই ডি খুলার সময় কই? যুগের চাহিদায় অনেকটা সৎসাহস নিয়েই “ঝরা পাতা” “শুকনা পাতা” “মরা পাতা” ছদ্মনামে নিজেদের আই ডি ইউজ করেন, মা বাবার দেওয়া শখের নামখানা গোপন রেখে!
একবার ভাবুন তো আপনার নিজের নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা করা হলে আপনি কি করবেন?
অতঃপর আপনি ‘কুদ্দুস বিন আবুল লস্কর’ শুকনাপাতা আর মরা পাতার আইডিতে ফ্রেন্ড হয়ে উনার ছবিটা করলেন চুরি (অনুমিত না নিয়ে ডাউনলোড)। আপনি এখানেও থেমে নেই, সেই ছবিনাখানা দিয়ে ওপেন করলেন ‘মরাপাতার’ গোপন করা নাম ‘সখিনা চৌধুরী’ কে ‘সেক্সি সখিনা’ নামে। ফেইসবুক, ফেইক আইডি আর ফটোশপের ভীরে সখিনার জীবন প্রায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রেন্ড লিস্টের এক আপু উনার সব ছবি blur (দৃষ্টির অস্পষ্টতা/ঝাপসা) করে আপলোড করেন।

এইতো সেদিন বিবাহিত এক আপুর পুরনো প্রেমিক তার উপর জেদ মেটাতে এমনি কুরুচিপূর্ণ কাজ করে বসেছে। সেই ফেইসবুক ফেইক আই ডি বন্ধ করতে কিছু মন্তব্যের সম্মুখীন আর প্রশ্ন জেগেছে, নীচে হুবহো তুলে ধরলাম-

Mr. Asif Pdb
1st of all biyer aage lutuputu korle emon e hoy… ekhane amader kichu korar nei… bcz apottikor chobi or close moment 2joner sommotitei hoice…so…………

আমি
একদম ঠিক বলেছেন ভাই।
আচ্ছা কারো যদি লুতুপুতুর ভবিষ্যৎ  ফলাফল সম্পর্কে ধারণা থাকতো সে কি কিবা আপনি আমি কি লুতুপুতু করতাম?

Miss. Rathree
lutuputu…what type of language it is?r u educated? relation sobai kore bt sei valobasar manuahta emon amanush hobe eta keu bujhte parena..help chaoa hoile help na. korte parle ajaira comnts kotbenna…@asif

Mr. Asif Pdb
Mohin Rahman Mah… kono kichu korar aage in future ta ki hobe seta bujha uchit..jodi sustho mostisker hoy ar ki… vabiya korio kaj , koria vabio na..

আমি
Asif Pdb
পৃথিবী তে সবাই ঠিক আপনার মত বুদ্ধিমান হয়ে জন্মায় না। অনেকের বুদ্ধির উদয় হয় কয়েকটা ধাক্কা কিবা এক্সিডেন্ট এর পর।

তাই বলে কি সে ক্ষমা পাবেনা?
তার কি ভুলটা বুঝার পর নিজেকে শোধরাবে নাহ্?

একটা ছেলের বেলায় যদি এই ঘটনা ঘটতো তাহলে আপনি আমি কোনো গায়েই লাগাতাম না! কেনো জানেন? আমাদের সমাজটা পুরুষের পাপসিদ্ধ সমর্থিত। এখানেই প্রব্লেম টা।
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্যে।

Mr. Asif Pdb
Mohin Rahman Mahi… asole khoma sei paoyar joggo je nijer oporad ta bujhte pare and vul ta songsodhon kore… kichu kichu khetre manus khoma paoyar joggo holeo khoma na korai better…bcz se onnor sathe next time emon korbena seta kew bolte pare na… and bro ami buddhiman na.. choto mostisker choto choto vabna n jototuku bujhar khomota ache seta thekei bola…. onek somoy amra jeta dekhi seta sotti hoy na… asol kotha kichu pordar aralei thake..

আমি
তার মানে আপনার কথায় এই দাঁড়ালো যে-
মেয়েটার এখন ক্ষমা না করাই শ্রেয়,  সে যাকে ভালোবাসতো (লুতুপুতু) তাকে বিয়ে নাকরে মস্তবড় অপরাধ করেছে তাও মানলাম।

মিথ্যা
মিথ্যা ভালোবাসার জালে পরে কত মেয়ে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন

তাহলে লুতুপুতুর সুবিধা নেওয়া ছেলের কাছে দুটা প্রশ্ন?

– সে কেনো মেয়েটাকে বিয়ে করেনি?
– সে কেনো মেয়েটা ছেলেটাকে বিয়ের কথা অবহিত করার পর লুতুপুতুর সুবিধা নিয়ে ভেগেছিলো?
– সে এখন কিসের আশায়  পুরনো স্মৃতির সাহায্যে মেয়েটাকে হয়রানি করছে? নিশ্চই পরকিয়ার ফাঁদে নতুন করে লুতুপুতুর সুবিধাদি নেওয়ার জন্যে নয়? অন্য কোন মহান উদ্দেশ্যে!

এসব সবই মেনে নিলাম-
ছেলেটা কি পারবে মেয়েটার অনাগত সন্তানসহ তাকে ঘরে তুলতে? এবং তাকে নিয়ে সারাজীবন কাটাতে?
ভরণপোষণ এর দায়িত্ব নিতে?
জানি আপনার আমার কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই।

তাহলে কেনো আপনি অন্যের পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করে গোটা পরিবারের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার আপনি কে?
কে আপনি?

একটু বলবেন প্লিজ?

এগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যাবে আসলে আমরা নারীর প্রতি কতটুকু সহনশীল এবং সাহায্য পরায়ণ। এতো গেলো নারী উত্যক্তকরণ সাথে পৈশাচিক আনন্দ নেওয়া। আমরা যারা ধর্মের প্রতি অধিক দুর্বল, আমাদের এই অধিক দুর্বলতাকেই পুঁজি করে ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক সহিংসতা আর ধর্মীয় বিরোধ। যা আমরা বিগত ক মাসের ঘরবাড়ি জ্বালানো-পুড়ানো এমনকি খুনাখুনির মতো ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।

আগুন
ফেইসবুকের একটি ছোট মিথ্যা স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে ধর্মের নামে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ‘কোন জায়গায় কী হলো, ফেসবুক নামের কোন জাগার কে কে লেখিল, হামরা এগুলোর কিছুই জানি না। হামার ঘর মানুষজন আসি কেনে পুড়ি দেলে?’ এ প্রশ্ন ঘরপোড়া অমুন্য রায়ের।

আশাকরি আপনারা নিজেরাই এর ভালো সমাধান জানেন। এখনি সচেতন হউন, নিজের অবস্থানটায় সৎসাহস নিয়ে ঝেড়ে উঠুন।
সুখী সুন্দর হউক আপনার জীবন।

® MOHiN rahman Mahi

স্বপ্নের চাকরিটা কি পেয়েই যাবো? ইন্টারভিউ কি ভালো হবে? (First Job hacks)

পড়াশোনা শেষ পর্যায়, এখন সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করবে, কি করবে এখন?

চাকরি, না অন্য কিছু? কবে করবে? কিভাবে করবে? সরকারী চাকরি? না বেসরকারি চাকরি?

এই সব এর ভেতর আমরা ভাবি প্রথম চাকরির কথা, কিভাবে পাবো আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত First Job। আর চাকরি যেহেতু করতে চাই তাই প্রথমেই মাথায় আসে ইন্টারভিউ। আজকে আমি কিছু ট্রিক্স বলবো কিভাবে প্রথম ইন্টারভিউ সফল করা যায়।

ইন্টারভিউ
চাকরি যখন দরজায়

নিজের কথা গুলো কে আগে মনের ভেতর গুছিয়ে নেবেন।

“কেন আপনাকে নেবো?” এই প্রশ্নটা বেশির ভাগ সময় করা হয়। মাথা ঠাণ্ডা রেখে উত্তর দেবার চেষ্টা করবেন।

৪ থেকে ৫ টি মূল পয়েন্ট তৈরি করে নিন নিজের মাথায়।

নিজেকে জিগ্যেস করুন –

“আপনি কি এই পদের জন্য যোগ্য?”

“আপনি কি অন্য কেন্ডিডেটদের তুলনায় বেশি কুয়ালিফাইড?”

উত্তর গুলো নিজের ভেতর মিলিয়ে নিলেই দেখবেন কত সহজ হয়ে গেছে উত্তর টা আপনার জন্য।

সুন্দর করে নিজেকে উপস্থাপন করা

ইন্টারভিউ
নিজেকে পরিপাটি রাখা খুব জরুরী

 

কথায় বলে না “প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী”। ইন্টারভিউ যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে সুন্দর, পরিস্কার এবং রুচিসম্মত পোশাক পরতে হবে। সুন্দর পোশাকের মানে এই না যে পোশাকটি দামী কিংবা নতুন হতে হবে। আপনার পুরাতন কোন হালকা রঙের শার্টকেও ধুয়ে আয়রন করে সুন্দর একটি লুক দেয়া যায়। এটা আপনার রুচি বোধকে প্রকাশ করে। আপনি কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন তা আপনাকে কোন রকম প্রশ্ন করা ছাড়াই  আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দিতে সক্ষম। সুতরাং নিজেকে উপস্থাপন করার ব্যাপারে আপনি অসচেতন হয়ে থাকলে একেবারেই চলবে না। আপনার অঙ্গভঙ্গিতেও আনতে হবে আমূল পরিবর্ত,  কোনভাবেই জুবুথুবু হয়ে ইন্টারভিউয়ারের সামনে বসা চলবে না। এই ছোটখাটো ডিটেইলসগুলো হয়ত আপনার কর্মদক্ষতার প্রতিফলন ঘটাবে না কিন্তু এসব ছোটখাটো ব্যাপারে আপনার অবহেলা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চেহারার অভিব্যক্তি

হাসি মাখা মুখ দেখতে কে না ভালোবাসে? তবে এটা ভাববেন না শুধু হাসি মাখা মুখ দেখে আপনাকে চাকরি দেয়া হবে। সুন্দর অভিব্যক্তি একজন মানুষকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। যদি আপনি কোন কিছুর উত্তর না জানেন তাহলে ঘাবড়ে না গিয়ে সুন্দর করে বলুন আর যদি পারেন তাহলে গুছিয়ে উত্তর দিন। কখনই বেশি কথা বলবেন না। ওভার কনফিডেন্ট হবেন না।

ভাষার দক্ষতা

ভালো একটা চাকরির জন্য অবশ্যই আমাদের কম পক্ষে ২টা ভাষা খুব ভালো করে জানতে হবে, একটা আমাদের নিজের ভাষা(অনেকেই বলবেন সবাই নিজের ভাষা জানেন, জানি আর বলি অনেক পার্থক্য, অনেক মানুষ নিজের শহরের আঞ্চলিক ভাষার টান ছাড়তে পারে না) এবং আর একটি এমন ভাষা যেটা সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। ইংলিশ ভাষা আমারদের ২য় মাতৃ ভাষার মতো। ভালো একটা চাকরি র জন্য অবশ্যই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বাংলা এবং ইংলিশ এ কথা বলা জানতে হবে।

শুধু ভালো করে বলতে পারেন, কিন্তু আপনার কারো কথা শোনার ক্ষমতা খুব কম। তাহলেও কিন্তু হবে না।

সুন্দরভাবে কথা বলতে পারার ক্ষমতা নির্ভর করে মনোযোগের সাথে ওপর ব্যক্তির শুনতে পারার ক্ষমতার উপর। আপনি যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যেতে পারেন তবে অপর ব্যক্তির কথা শোনার মানসিকতা আপনার না থাকে তবে এখন থেকেই নিজেকে ভাল  শ্রোতা হিসেবে গড়ে তুলুন। ভাল বলতে পারার ক্ষমতা আপনাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে  যাবে কিন্তু আপনার টেকনিক্যাল স্কিলগুলোতে যদি কোন ঘাটতি থেকে থাকে তবে  সেগুলো এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে না। সুতরাং আপনার ভাল বলতে পারার ক্ষমতা এমন ভাবে ব্যবহার করুন যাতে করে সেটি আপনার কর্মদক্ষতাকে আরও বিকশিত করে।

যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যাশা করুন

ইন্টারভিউ
নিজের উপর বিশ্বাস রাখা খুব জরুরী

ভাল কাজের দাম আপনি পাবেন তবে আপনাকে প্রথমে আপনার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং শুরুতেই সব ধরণের সুযোগ সুবিধা একসাথে আশা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সবাই সবচেয়ে ভালটাই আশা করে, কিন্তু অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি যোগ্য কিনা। যোগ্য না হলে সেটা নিয়ে মন খারাপ করে থাকার কোন মানে হয় না। যোগ্যতা অর্জন করুন। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, পরিশ্রম করলে কখন তা বিফলে যায় না। সুতরাং পরিশ্রম করতে থাকুন।

যারা এখন চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা ইন্টারভিউ দিবেন তাদের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।

 

 

অল্পের জন্য বেঁচে গেলো শখের ফোনটা

ঢাকার শহরের মধ্যে মোহাম্মদপুর প্রিয় একটা জায়গা। প্রিয় কিছু মানুষের বসবাস আর অধিক যাতায়াতে পরিচিতির কারণে, এমনটা সবার বেলায় ই হয়। সিলেট থেকে নির্ধারিত পাঁচ ঘন্টার জার্নির কথা বলে, সাড়ে সাত ঘন্টায় বাস পৌঁছালো ঢাকা।বি.আর.টি.সি. এর দ্বিতল বাস ধরে মহাখালী থেকে মোহাম্মদপুর আসছি, ঝুলে ঝুলে বেহালে! সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা, পিক আওয়ার অফিস শেষে ঘরে ফেরার তাড়া সবার। তাই বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকুই যে পেয়েছি ভাগ্যের ব্যাপার।

আড়ং এর মোড় আসার পর মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্যে বাসের সংরক্ষিত ১৩ টি আসনের মধ্যে একটি আসন খালি হলো। খালি সিটের পাশেই দাঁড়ানো আছি আমি, সংরক্ষিত আসনে একটা মেয়ের পাশে বসতে ইতস্তত বোধ করছি, কারণ মেয়েটাকে ডিঙিয়ে ভেতরে বসতে হবে অথবা উনাকে বলতে হবে একটু ভেতরে চাপেন, বসবো! এইভাবে ইতস্তত ভাব নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি মিনিট পাঁচেক। ভদ্র মহিলাই (মেয়ে) আমাকে বলছেন- দাঁড়িয়ে কেনো? বসুন এখানে! উনি উঠে আমাকে জানালার পাশে বসার সুযোগ দিলেন কারণ একটু পরেই উনি নেমে যাবেন। আমিতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি মার্কা অনুভূতি নিয়ে আসন গাড়লাম, বাসে জানালা পাশের সিট সবারই প্রিয়। পকেট থেকে মুঠোফোন টা বের করে বরাবরের মতো কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শুনা শুরু।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলো আজকাল যোগাযোগের বিশাল একটা মাধ্যম হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে। আর সাধের স্মার্টফোনের কথা আর নাইবা বললাম। ডাটা (ইন্টারনেট) চালু করে দেখলাম অনেকগুলো ম্যাসেজ এসেছে বন্ধুদের, সবাই চাকুরীর পরীক্ষা দিতে এসেছে, তাই কে কোথায় আছে লোকেশন জানতে চাচ্ছে। আসাদগেট ছেড়ে টাউনহল মসজিদ রোড এসে বাস থেমে আছে অনেকক্ষণ। মনে মনে ভাবছি ঢাকা শহরের কিছু পাবলিক বাসের মধ্যেই অভার ফোনে অফিস সারে বোধয়, পাবলিক প্লেসে এতকথা কিভাবে বলে লোক গুলো? বিরক্তি নিয়ে একটার পর একটা গান পরিবর্তন করছি। রোডের মাঝখানে আমাদের বাস ঘেঁষে কে জানি হেটে আসছে, সামনের লুকিং গ্লাসে এক পলক দেখলাম।

বাসের চাকা ঘুরতেই কে জানি আমার হাতে থাকা ফোনে ঝাপটা দিয়েছে! মস্তিষ্ক জানান দিলো সেই লোকটা, যে একটু আগে পায়চারি করছিলো। আমিও হাতের ফোনটা আমার পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে তৎক্ষণাৎ ধমকি দিয়ে ফিরতি ঝাপটা দিলাম বেচারার হাতটা ধরার জন্যে। সৌভাগ্যক্রমে তার, দুর্ভাগ্য আমার হাতটা ধরতে পারিনি! পেছন থেকে লোক চেঁচিয়ে জিগ্যেস করলেন- ফোনটা কি নিতে পেরেছে!!? (জিগ্যেস ভাব খানা এমনঃ ফোনটা নিলে উনি খুশি হতেন) বললাম- না! হাতটা ধরতে পারিনি, নইলে ঝুলিয়ে রাখতাম কিছুক্ষণ।

একইসাথে দুটা বিষয় কাজ করছে মনে- ছিনতাইকারী ফসকে যাওয়ার আফসোস এবং ফোন টা না হারানোর আনন্দ। কাউকে যদি জিগ্যেস করেন- মনে করুন আপনি বিশা হাজার টাকা আর বিশ হাজার টাকার একটা ফোন হারিয়েছেন। কোনটার জন্যে আপনার আফসোস বা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মনে করেন? নির্দ্বিধায় উত্তর দেবে ফোনের জন্যে।

যদি ফোনটা হারানো যেতো যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতাম-

→সবার কাছ থেকে যোগাযোগের দিক দিয়ে সাময়িক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতাম। (“এখান থেকে ফোন করা যায়” এই সাইনবোর্ড বাংলাদেশ থেকে বিলীন) এখন আর পরিবারের ফোন নাম্বার ব্যাতিত কেউ দুনিয়ার নাম্বার মুখস্থ রাখেনা।

→গুগল ম্যাপ দেখে দেখে ঢাকায় মাস্তানি করে ঘুরাঘুরি বন্ধ হয়ে যেতো।

→বিশেষ বিশেষ নোট, ইমেইলিং, মোবাইল ব্যাংকিং এরকম দরকারি অনেক কিছুর জন্যে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাথে অলস একা সময় কাটানোর কথা বলার অপেক্ষা রাখেন।

কিছু কথাঃ
আমরা যারা দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ঢাকা শহরে আসি, স্বাভাবিক ভাবেই এ অনেক বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকিনা। কারণ ঢাকার মতো আপনার আমার শহরে হয়তো ছিনতাইয়ের সাথে পরিচিত না। নিচের এ কথা গুলো হয়তো আপনার একটু উপকারে আসতে পারে।

** ঢাকা শহরে বাসে জানালার পাশে বসে মোবাইল ফোন অপারেট করবেন না। যদি আমার মতো ঘাউড়া হোন তাইলে কইরেন। কারণ ছিনতাইকারী কে ফিরতি ঝাপটা দেওয়ার হিতায়িত জ্ঞান সবার থাকেনা। (মজার বিষয় হচ্ছে এই লিখাটাও বাসে জানালার পাশে বসে লিখছি)

** আপনি শখের বসে সুন্দর একটা দৃশ্য ধারণ করার জন্যে পকেট/ব্যাগ থেকে ফোন টা নিয়ে মোবাইল গ্রাফি করতেই পারেন। কিন্তু এটাও বিপদজনক, আপনার ফোনটা নেওয়ার জন্যে দূর থেকে ঢিল মেরে কিবা কোনো অস্ত্র ছুড়ে মারতে পারে। চোখ কান খোলা রেখে হাত এবং ফোনের মায়া ছাড়তে পারলে ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

** জানালার পাশে সিটে বেখেয়ালি কিবা না ঘুমানোই ভালো।

** যাত্রাপথে আপনার মালামাল এবং নিজের খেয়াল রাখুন।

** অপরিচিত লোকের দেয়া কিছু খাওয়া যেতে পারে যদি সে আর আপনি যদি একই খাবার একসাথে খান।

একটুখানি অসাবধানতা আপনাকে বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারে। শুভ হউক আপনার আমার প্রতিটি যাত্রা দূরের কিবা কাছের। সুন্দর এবং সুস্থ্যভাবে ফিরে যাই আপনজনের কাছে।

MOHiN rahman Mahi

পানির দাম

ফিরোজের মন খারাপ। অনেক বেশিই খারাপ। তার বউ ২ দিন ধরে প্রসব বেদনায় কষ্ট পাচ্ছে। অবস্থা ভালো না। আরও ১২ ঘণ্টা আগেই তাকে হাসপাতালে নেয়া উচিত ছিল। কিন্ত হাসপাতাল এখান থেকে অনেক দূরের পথ। পথ বলতে কিছুটা ভ্যান গাড়িতে, কিছুটা হেঁটে, বাকি পথ লঞ্চে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ। আয়সাকে হাসপাতালে না নেবার এটা একটা কারণ, তার চেয়েও বড় কারণ আয়সার বাবা মা চাননি তাদের মেয়ে হাসপাতালের খোলামেলা পরিবেশে সন্তান প্রসব করুক। আর ফিরোজের মারও বৌমাকে হাসপাতালে পাঠাবার ব্যপারে একদম সায় ছিল না। এই ফুলপুর গ্রামের মানুষগুলি সহজ সরল, ধর্মভীরু, আর অনেক হাসিখুশি, মেয়েরা পর্দাশীল। গ্রামের প্রায় ১০০ ভাগ মানুষ নামাজি। এই গ্রামের মানুষেরা সবাই সবার অতি আপনজন। এখানকার ছেলেমেয়েরা বেশির ভাগই নিজ গ্রামের ছেলেমেয়েদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আয়সা ফিরোজের আপন মেঝো চাচার মেয়ে। তারা একই বাড়ির ছেলেমেয়ে। প্রায় ২ বছর হল ওদের বিয়ে হয়েছে। ফিরোজ মিয়ার বয়স ২৩, শ্যামল, সুঠাম দেহের শক্তিশালী একজন যুবক। গাল ভরা কালো দাড়ি। কোনদিন গালে ব্লেড লাগায়নি। আশা আছে সারা জীবন সেভ না করে মরবে এবং বেহেস্তে বসে লায়লি-মজনুর বিবাহ দেখবে।  সে ফুলপুর বাজারে ছোট একটা মনিহারি দোকান চালিয়ে বেশ ভালো ভাবেই জীবিকা নির্বাহ করে। আগে তার বাবা চালাত। ৫ বছর আগে লঞ্চ ডুবিতে তিনি মারা যান। এখন সে চালায়।

বাজারের মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ আদায় করে এখন দোকানে বসে ক্যাশ মিলাচ্ছে ফিরোজ। সারাক্ষণই আয়সা ও তার অনাগত সন্তানের জন্য দোয়া করে চলেছে সে। আয়সার কিছু হলে সেও বাঁচবে না। সে আয়সাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসে। তার বউ এর বয়স মাত্র ১৭বছর। এত অল্প বয়সে আয়সা সন্তান নিতে একটুও আগ্রহী ছিলনা। ফিরোজের জোরাজোরিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে রাজি হয়েছে। এখন সে আত্মগ্লানিতে ভুগছে,-আমার জন্যই আয়সা আজ মরতে বসেছে।

এখন বেচাকেনার সময়। দোকানে বেশ কিছু কাস্টমার ভিড় করেছে। সে বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে দোকান বন্ধ করতে লাগলো। সে এখনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাবে। দুই দিন ধরে দোকানে বসেনা বললেই চলে। আয়সার পাশে থাকাটা এই সময় সবথেকে বেশি জরুরি। দোকানের শেষ দরজাটা আটকাতে যাবে ঠিক সেই সময় ফিরোজের সামনে একজন মানুষ এসে দাঁড়ালো। দাঁড়ী-গোঁফ আর চুলের জঙ্গলে ঢাকা সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষ। পরনে ময়লা একটা সাদা হাফ সার্ট, কালো প্যান্ট। খালি পা।

বয়স ৩০ হতে পারে আবার ৫০ হওয়ার সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। হাড্ডিসার মানুষটার শরীরে পোশাকগুলি ঢল-ঢল করছে। নতুন কোন পাগল হবে হয়তো, ভাবলো ফিরোজ। ফুলপুর বাজারে মাঝে মাঝেই নতুন নতুন পাগলের আমদানি হয়।

-পানি বিক্রি করেন?

লোকটার কথায় অবাক হল ফিরোজ। সে একটা কাঁচের গ্লাস হাতে নিতে নিতে বললো

-পানি বিক্রি করিনা, আপনি যত খুশি এমনিই খান।

লোকটা মাথা নাড়ল।

-মাগনা কিছু খাইনা।

ফিরোজ বেশ বিরক্ত হচ্ছে।

–আরে মিয়া, বললাম না আমাদের বাজারে পানি বিক্রি হয় না।

সে এক গ্লাস পানি ভরে লোকটার দিকে এগিয়ে দিল

-এই যে নিন পানি খান।

লোকটা পানির গ্লাস নিলনা, ঠায় দাড়িয়ে রইলো। বিরক্ত স্বরে ফিরোজ বললো

-কি হল? পানি খাবেন না?”

লোকটা মাথা নেড়ে বললো

-একবার বলেছিতো মাগনা কিচ্ছু খাইনা। এই ১ গ্লাস পানির দাম কত বলেন?

ফিরোজ প্রচণ্ড বিরক্ত হচ্ছে, রাগও হচ্ছে খুব। অন্য সময় হলে লোকটাকে কষে ধমক লাগাত সে। কিন্তু এখন তার মনটা দুঃখ ভারাক্রান্ত আর অনেক নরম। সে নরম স্বরে বললো

-ভাই, মাগনা খেতে হবেনা, আগে পানি খান, তারপর যা মন চায় তাই দিয়েন।

এবার লোকটা পানির গ্লাস হাতে নিলো। কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে পানির দিকে তাকিয়ে রইলো লোকটা। ময়লা আছে কিনা খুঁজছে? ফিরোজ এবার রাগত স্বরে বললো

-আরে ভাই কি দেখেন, একটু আগেই কল থেকে টাটকা পানি তুলে এনেছি। খান, একদম ফ্রেস পানি, কোন ময়লা নেই।

লোকটি ফিরোজের কথায় কোন সারা দিলনা, পানির দিকে তাকিয়েই রইল। ফিরোজ মনে মনে বিরক্ত হলেও আর কিছু বললো না। প্রায় ৩/৪ মিনিট পর লোকটা পানির গ্লাসে ঠোঁট ছোঁয়াল। ঢক ঢক করে অর্ধেকের বেশি পানি খেয়ে ফেললো সে। প্রায় আধা ভরা গ্লাসটা ফিরোজের দিকে বাড়িয়ে দিলো

-এই নিন আপনার পানির দাম। এর থেকে কিছুটা আপনার স্ত্রীকে খাইয়ে দিবেন, বাকিটুকু তার পেটে ঢেলে দিবেন।

গ্লাসটা ফিরোজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে, আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না লোকটা, দ্রুত আড়ালে মিলিয়ে গেলো। গ্লাস হাতে হতভম্বের মত কিছুটা সময় দাড়িয়ে রইলো ফিরোজ। মানুষটার খোঁজে কয়েকবার এদিক-ওদিক তাকাল সে, কিন্তু কোথাও লোকটির চিহ্ন মাত্র নেই। যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। বুক ধর-ফর করছে, শরীরে কাঁপন অনুভব করছে ফিরোজ। তার মন বলছে, যা ঘটেছে সেটা কোন স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। সে পরম মমতায় পানির গ্লাসটায় বার বার চুমু খেতে লাগলো। তার বিশ্বাস এই পানি আয়সাকে খাওয়ালেই, সে ভাল হয়ে যাবে। সে তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে বাড়ীর দিকে হাঁটতে লাগলো। পা চালিয়ে গেলে ২০ মিনিটের পথ। সে যখন অর্ধেক রাস্তা পার হয়েছে দেখলো, তার শ্যালক নাসির ছুটতে ছুটতে এদিকেই আসছে। ধক করে ওঠলো কলিজাটা, সব কি শেষ? হাঁপাতে হাঁপাতে নাসির বললো

-দুলাভাই, তাড়াতাড়ি বাইত লন, বুবু কেমন জানি করতাছে।

বলতে বলতেই কেঁদে ফেললো সে। নাসিরকে নিয়ে ফিরোজ এবার রুদ্ধশ্বাসে বাড়ির দিকে ছুটতে শুরু করলো।

ফিরোজদের বাড়ি ভরা মানুষ। মধ্য বয়সী কয়েকজন মহিলা পূর্ব পাশের বারান্দায় বসে কোরআন-মজিদ পাঠ করছেন। পুরুষেরা অসহায়ের মত এদিক-সেদিক বসে আছেন। আজ ভরা পূর্ণিমা। চারদিক আলোকিত করে এই সন্ধ্যা রাতেই পূর্ব আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। এই পাগল করা জ্যোৎস্নায় এ বাড়ীর প্রতিটা মানুষকে কেমন বিষণ্ণ আর মলিন দেখাচ্ছে। একটা ঘর থেকে ক্ষীণ স্বরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। আয়সার মা তিনি। সে আজ সকাল থেকেই মেয়ের জন্য শুধু কেঁদেই চলেছেন। অনেকেই তাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছেন, কিন্তু কিছুতেই তার কান্না থামানো যাচ্ছে না। সে তার মেয়ে আয়সাকে নিয়ে গত রাতে ভীষণ খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছে। শেষ রাতের দিকে চোখটা একটু লেগে এসেছিলো, তখন সে স্বপ্নটা দেখেছে। একটা মড়ার খাটের উপর সাদা কাফনে মোড়ানো আয়সার লাশ শুইয়ে রাখা হয়েছে, পাশে আর একটা ছোট মানুষের লাশ, সেটাও সাদা কাফনে ঢাকা। কেঁদে ঘুম ভেঙ্গেছে তার, সেই কান্না এখনও থামেনি।

জ্যোৎস্নার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন ছবির মত এই ছোট্ট গ্রামটা। এই মুহূর্তে গ্রামের প্রতিটা বাড়ী মানুষ শূন্য বলা যায়। সবাই বসে আছে আয়সাদের বাড়ী। গ্রামের সবার চোখের মণি আয়সা। নারী-পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সবাই আয়সাকে অনেক ভালবাসে। আবার সম্মানও করে। আয়সা মানুষটা ছোট হলে কি হবে, ওর কথা বার্তা, চাল-চলন, ব্যক্তিত্ব বড় মানুষদেরও হার মানায়। এই গ্রামে এমন বাড়ী কমই আছে, যারা আয়সার দ্বারা কোন না কোন ভাবে উপকৃত হয়নি। কারো অসুখ হলে, তার সেবায় নিজেকে উজার করে দিবে আয়সা। কারো ঘরে খাবার নেই, নিজে চাল ডাল কিনে নিয়ে হাজির। প্রতিবেশীদের মাঝে ঝগড়া লেগেছে, আয়সা গিয়ে হাজির। ঝগড়া বন্ধ। গ্রামে কারো বিয়ে, সে গিয়ে হাসি আনন্দে পুরো বিয়ে বাড়ী মাতিয়ে তুলবে। এরকম একজন মানুষের বিপদে, মানুষ কি ঘরে বসে থাকতে পারে?

আয়সা সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া-লেখা করেছে। তার ইচ্ছা ছিল, অনেক পড়া লেখা করবে। বড় একজন উকিল হবে। গরিব, অসহায় মানুষদের বিনা পয়সায় ন্যায় পাইয়ে দেবে। কিন্তু তার কোন কথাই বাপ-মা কানে তুলল না, এক প্রকার জোর করেই চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলো। অবশ্য ফিরোজকে সে খুবই পছন্দ করতো। মনে মনে ভালোও বাসত। আর ফিরোজতো ওর জন্য পুরাই পাগল। বিয়ের পর আর স্কুলে যায়নি আয়সা। ফিরোজ যেতে বলেছে, তবুও যায়নি। কি করে যাবে, সে নিজে ছিল বাল্য-বিবাহের বিরুদ্ধে। কি করে স্যারদের, সহপাঠীদের মুখ দেখাবে?

আয়সা তার ঘরে, মেঝেতে পাটির উপর শুয়ে আছে। অচেতন। সুন্দর মুখটা ব্যাথায় নীল হয়ে গেছে। তাকে ঘিরে বসে আছে এই এলাকার সব থেকে অভিজ্ঞ ধাত্রী নবিরন খালা এবং আরও দুইজন ধাত্রী। আয়সার দাদী এবং নানীও পাশে বসে আছে। সবারই মুখ মলিন আর পাথরের মত থমথমে। নবিরন খালা এবং এ ঘরের বাকি সবাই প্রসব-কালীন ব্যপারে খুবই অভিজ্ঞ। তারা বুঝতে পারছেন, এখন আর কারোরই কিছু করার নেই। যে কোন সময় সব শেষ হয়ে যাবে। অনেকক্ষণ হল আয়সার সমস্ত নড়া-চরা বন্ধ হয়ে গেছে। শ্বাস নিচ্ছে অনেক সময় নিয়ে। তার পেটের সন্তানও কিছুক্ষণ হল সাড়া দিচ্ছে না। প্রাণ রসে ভরপুর কিশোরী একজন বধু, দশ মাসের সন্তান পেটে মরতে বসেছে। দুই দিন ধরে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে মেয়েটা। যেদিন ব্যাথা উঠেছে, সেদিনই যদি তাকে হাসপাতালে নেয়া হতো, তাহলে সে এখন বাচ্চা কোলে সবার সাথে আনন্দ করতো। দুর্ভাগ্য, দূরত্ব আর সামাজিক গোঁড়ামির জন্য তারা সেটা করেননি। চেয়ে চেয়ে প্রিয় মানুষের মরণ দেখা ছাড়া, এখন আর কারোরই কিছু করার নেই।

দরজায় ধমাধম শব্দ হচ্ছে। আয়সার দাদী দরজা খুলে দিলো। তাকে পাশ কাটিয়ে তাড়াতাড়ি প্রসূতির রুমে ঢুকে গেল ফিরোজ। একজন ধাত্রী পাশ সরিয়ে আয়সার মাথার কাছে বসলো সে। এক হাত আয়সার ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে নিয়ে, মাথাটা উচু করল, তারপর বিসমিল্লাহ্‌ বলে আয়সার মুখে গ্লাসটা ধরল। ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে আয়সার মুখে পানি দিতে লাগলো। আয়সা একটু একটু করে পানি গিলছে। সে অনেকক্ষণ ধরেই পিপাসায় কাতর হয়ে ছিল। পিপাসায় গলা, বুক সব শুকিয়ে আছে তার। সে অচেতন তাই বলতে পারছিলনা -পানি খাবো। এখন মুখে পানির স্পর্শ পাওয়া মাত্রই তার অবচেতন মন তাকে পানি খেতে প্রলুব্ধ করছে। অর্ধেকের বেশি পানি আয়সাকে খাওয়ালো, বাকি পানিটুকু আয়সার পেটে মেখে দিলো ফিরোজ। প্রচণ্ড উত্তেজনায় তার শরীর কাঁপছে। কারো সাথে একটি কথাও না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ফিরোজ। ঘরের দরজা আবার লাগিয়ে দিল ভিতরের মহিলারা।

ফিরোজ ওর মার ঘরে ঢুকলো। তার মা জায়নামাজে সেজদায় পরে আছেন। সেও মায়ের পাশে বসে, দুই হাত তুলে, আল্লাহ্‌র কাছে প্রাণ প্রিয় জীবন সঙ্গিনী আর অনাগত সন্তানের জন্য আকুল মিনতি জানাতে লাগলো। আল্লাহ্‌ সব পারেন। তিনি করুণাময়, অসীম দয়ালু। তিনি কি গ্রামের এই সহজ সরল মানুষগুলির করুণ আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পারেন? তিনি এক গ্রাম মানুষের ব্যাথিত মুখগুলো মুহূর্তে হাসির বন্যায় ভাসিয়ে দিলেন।

পানির

হঠাৎ, সবার কান খাড়া হয়ে গেল? ফিরোজের ঘর হতে বাচ্চার কান্নার শব্দ ভেসে এল না? হ্যাঁ, তাইতো। ঐ ঘর থেকে একটা বাচ্চার জোরালো কান্নার শব্দ আসছে। সবাই একসাথে হই-হই করে উঠলো। খুশিতে সবাই একসাথে কথা বলতে চাইলো। ফলে, নীরব বাড়িটা মুহূর্তে গম-গম করে উঠলো। সবার দৃষ্টি ফিরোজের ঘরের বন্ধ দরজার দিকে। দরজা খুলে নবিরন খালা বেড়িয়ে এলেন। বুকের কাছে ধরে আছেন নতুন পাতনিতে জড়ানো একজন নবজাতক। তার মুখে হাসি যেন ধরেনা।

-এই যে আপনেরা সবাই শোনেন

নবিরন খালা উঁচু গলায় ঘোষণা করলেন

-আমাদের আয়সার, পরীর মত ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। সবাই আল্লাহ্‌র দরবারে সুকরিয়া আদায় করুন।

সবাই একসাথে শুকুর আলহামদুল্লিলাহ বলে উঠলো। এবার তারা আয়সার খবর জানতে চায়। আয়সাও ঠিক আছে, জানায় নবিরন খালা। একটু আগের দুঃখী মুখগুলি খুশিতে ঝল-মলিয়ে উঠে। পাতনি সরিয়ে শিশুটিকে চাঁদের আলোয় মেলে ধরলেন নবিরন খালা। তার হাতের উপর নরম তুলতুলে পিচ্চি মানুষটি হাত-পা নাড়তে লাগলো, আর চাঁদের দিকে অবাক তাকিয়ে রইলো। ফিরোজ অবাক বিস্ময়ে শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছে। আহা, কত কষ্ট করে এই পৃথিবীতে এসেছে আমার মানিকটা। ফিরোজের দু চোখ জলে ভরে উঠে। সে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেনা, ভুলে যায় এর আগে কোন দিন কারো ছোট্ট বাচ্চা সে কোলা নেয়নি। ধাত্রীর হাত থেকে আলতো করে মেয়েকে তুলে নেয় ফিরোজ। পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে, বার বার কপালে চুমু খেতে থাকে।   সে নবিরন খালার সাথে প্রসূতির রুমে ঢুকে পরে। নবিরন আবার দরজা লাগিয়ে দেয়। আয়সার জ্ঞান ফিরেছে। সে তাকিয়ে আছে ফিরোজের দিকে। ফিরোজ আয়সার মুখের কাছে গিয়ে বসলো। কি অপরূপ মায়াময় দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে আয়সা। সে দৃষ্টিতে, ভালবাসা, কৃতজ্ঞতাবোধ, অভিমান, লজ্জা, গর্ব আরো কত কিছু উপলব্ধি করে ফিরোজ। তার চোখ থেকে কান্না গড়িয়ে পরে আয়সার কপালে, গালে। সে এবার আস্তে করে মেয়েকে মার পাশে শুইয়ে দেয়। আয়সার একটা হাত নিজের হাতে তুলে নেয়, গভীর মমতায় বার বার চুমু খায়, হাতটাকে। কপালে, গালে গড়িয়ে পরা তারই চোখের জল এবং আয়সার চোখের জল, গভীর অনুরাগ, আর আদরের সাথে মুছে দিতে থাকে ফিরোজ। কঠিন বেদনার ছাপগুলি মুছে যাচ্ছে, আয়সার চোখ মুখ থেকে। সেখানে ফুটে উঠছে পরম প্রশান্তি আর নির্ভরতার ছাপ। ঘরের অভিজ্ঞ মহিলারা জানেন, স্বামীর এই হৃদয় উজাড় করা ভালবাসাই রোগীকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলবে। তাদের সবার মুখেই ফুটে উঠেছে নির্মল হাসির ছোঁয়া……………।।

          S. Kabir

কাঠ এতো দামী হতে পারে? শুনলে বিশ্বাস করতে চাইবেন না

কাঠের আসবাবপত্র কার না ভালো লাগে? অনেকেরেই কাঠের তৈরি জিনিসের প্রতি আছে ভীষণ সৌখিনতা। ঘরের সব কিছু কাঠের তৈরি হলে মন্দ হয় না। বাংলাদেশের ভালো মানের কাঠের তালিকায় আছে লোহা, সেগুন, মেহেগুনি, কাঁঠাল ছাড়া আরও নানান পদের দামী কাঠ। কিন্তু কোন কাঠের দাম যদি হয় ২০,০০০ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি  ১৬০০০০০ টাকা। এখনো বিস্ময়ের শেষ হয়নি। এই দাম কিন্তু ১ কেজি কাঠের। অবাক হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। পৃথিবীর সব দামী ও বিস্ময়কর কাঠ নিয়ে আজ আলোচনা করব। জানতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আফ্রিকান ব্ল্যাক উড

কাঠ
আফ্রিকান ব্ল্যাক

পৃথিবী নামক এই গ্রহের দামী কাঠগুলোর মধ্যে এটি একটি। এই ধরণের কাঠ সাধারণত বাদ্য যন্ত্র বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। কাঠের রঙ কুচকুচে কালো হয়। আফ্রিকার শুষ্ক এলাকায় এদের বিচরণ। সাউথ আফ্রিকার কিছু জায়গায়ও এদের পাওয়া যায়। বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় গাছের দলে চলে এসেছে। এটি একটি বৃক্ষ শ্রেণীর গাছ। সুন্দর এই কাঠটি দেখতে খুব বিলাসী আর দামী মনে হয়। প্রতি কেজির দাম পড়বে ৮০০০০০ টাকা।

আগার উড

কাঠ

এটি আকুলিয়ার গাছ থেকে পাওয়া যায়। এটি ইতিমধ্যে 3,000 বছর ধরে বিদ্যমান। কাঠটি প্রাকৃতিক তেল তৈরি করতে পারে। এই কাঠের তেল বিশেষ ধরণের ঘ্রাণ সমন্বিত। এই কাঠটির চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। খুব হাল্কা ওজনের হয়ে থাকে এই কাঠ। কাঠের রঙ কুচকুচে কালো। ছোট ছোট ব্লকে এগুলোকে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজির দাম পড়বে ৮০০০০০ টাকা।

ইবনি উড

কাঠ
ইবনি উড

ডায়ওসপায়রস গাছ থেকে ইবনি কাঠ পাওয়া যায়। এই কাঠগুলো এতটাই হাল্কা হয় যে পানিতে অনায়েসে ভেসে থাকতে পারবে। কালো বৃক্ষ নামেও এরা পরিচিত। পিয়ানো, সেলো, হারপ্সিকরড, ভায়োলিন সহ আরও অনেক ধরণের বাদ্যযন্ত্র বানাতে এই কাঠ ব্যবহার করা হয়। আগার এবং আফ্রিকান ব্ল্যাক উডের মতই দাম।

চন্দন কাঠ

কাঠ
চন্দন কাঠ

এই কাঠটির সাথে কম বেশি সবাই আমরা পরিচিত। চন্দন গাছ থেকে এই কাঠ পাওয়া যায়। চন্দন কাঠের আনুমানিক দাম ১৬০০০০০ টাকা প্রতি কেজি। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে আমরা বাজার থেকে যে সকল কাঠ চন্দন কাঠ ভেবে কিনছি সেগুলো কি আসল। উত্তর টা দাম শুনেই আশা করি বুঝতে পেরেছেন। চন্দন কাঠের ঘ্রাণ এত তীব্র আর বেশি যে বছরের পর বছর এই ঘ্রাণ একি রকম থাকে। নানান পদের সুগন্ধি তেলও বানানো হয় চন্দন কাদ থেকে।

লিগনাম ভিটা

কাঠ
লিগানাম ভিটা

এটি চিরজীবী বৃক্ষ নামে পরিচিত। খুব ধীর গতিতে বাড়ার কারণে এই নাম পেয়েছে লিগনাম ভিটা। সাউথ আফ্রিকা আর কেরাবিয়ান অঞ্চলে এদের পাওয়া যায়। বলিষ্ঠ, ঘনত্ব আর দৃঢ়তার জন্য এই কাঠটি খুবই জনপ্রিয়। প্রতি পাউণ্ড দাম পড়বে ৪০০ টাকা।

পারপেল হার্ট অথবা বেগুনী হৃদয়

কাঠ

পারপেল হার্ট উড একটি অনন্য রঙের কাঠ। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এর রঙ বেগুনী। সাউথ এবং মধ্য অ্যামেরিকায় এদের পাওয়া যায়। উষ্ণ এলাকায় জন্মে গাছ গুলো। প্রতি বোর্ড ফিট দাম পড়বে ৯৬০ টাকা।

ডালবেরজিয়া

কাঠ
ডালবেরজিয়া উড

আলবার্টিনা গোত্রের একটি গাছ। এগুলো ছোট ও মাঝারী আকারের হয়ে থাকে। সাউথ এবং মধ্য অ্যামেরিকার উষ্ণ এলাকায় এদের পাওয়া যায়। ডালবেরজিয়া এর অদ্ভুত সুন্দর রঙের জন্য বেশ জনপ্রিয়। প্রতি বোর্ড ফিট দাম পড়বে ১১২০-১২৮০ টাকা।

বোকট

কাঠ
বোকট উড

করডিয়া নামক গাছ থেকে এই কাঠটি পাওয়া যায়। গাছটি বোরেজ গোত্রের।

বোকট কাঠের অতিরিক্ত চাহিদার জন্য এর দাম এখন দিন দিন বেড়ে চলছে।

কাঠের রঙ এত সুন্দর যে পলিশ করার কোন দরকারই নেই। প্রতি বোর্ড ফিট দাম পড়বে ২৬৪০ টাকা।

বুবিঙ্গা

কাঠ
বুবিঙ্গা উড

গুইবোরটিয়া গাছ থেকে পাওয়া যায় বুবিঙ্গা কাঠ।

বড় বড় বন, লেক অথবা নদীর পাশেই এই গাছের দেখা মেলে কারণ এই পরিবেশ ওদের বেড়ে উঠার জন্য যথাযথ।

সাধারণত ব্যাংককে এই গাছ গুলো পাওয়া যায়। এই কাঠ সব ধরণের কাজেই ব্যবহার করা যায়।

প্রতি বোর্ড ফিট দাম পড়বে ১৫২০ টাকা।

 

 

 

Artificial Intelligence: Tomorrow’s future

Around us we are getting to be known about Artificial Intelligence. It’s also called MI (Machine Intelligence). AI research is defined as the study of “intelligent agents” in computer science. What do you know about AI? Will that help us? Or it is dangerous for us like what we see in the science fiction movies. So let’s talk about AI. You will also see the pros and cons about it.

Some great people created Artificial Intelligence.

Artificial Intelligence
John McCarthy

John McCarthy is one of the “founding fathers” of artificial intelligence, together with Marvin Minsky, Allen Newell and Herbert A. Simon. John McCarthy created the term “Artificial Intelligence” in 1955. McCarthy was a computer and cognitive scientist. He received Turing Award for his contributions to the topic of AI.

Artificial Intelligence definition

The father of AI, John McCarthy, define that “The science and engineering of making intelligent machines, especially intelligent computer programs”.

AI is cultured by studying how human brain thinks, works, learns and does solve problems. “Can a machine think and behave like humans do?” this thought make McCarthy curios.

AI has two goals.

Create expert systems.

Implement human intelligence in machines.

Artificial Intelligence
Implement human intelligence in machines.

Artificial Intelligence is authoritative to many fields and sectors like-

Gaming: AI has ultimate role in strategic games, like tic_tac_toe, chess, poker etc. They can understand the large number of possible moves or positions by the heuristic knowledge.

Vision systems: This system can understand, recognize visual input on the computer.

Doctors diagnose the patient with clinical experts.

In crime brunch computer software can recognize the criminal face among lots of input photo in the computer.

Handwriting recognition: Through this computer can recognize the shape of letters and edit it.

Speech recognition: Almost everyone uses smartphone. It is very familiar to us. Google assistant is an AI. What you will ask it will reply you with the correct answer. Google gives us opportunity to meet with AI.

Intelligence Robot: This is the most featured topics in the world now. This robot will think like human. Recently we meet with Sophia. Who gets the citizenship in Saudi Arabia. It is a historical event for us. Hanson Robotics, situated in Hong Kong made Sophia. Business Insider made up for lost time with it at Web Summit, the immense tech gathering in Lisbon. We put forth a couple of impromptu inquiries and found an assortment of solutions, running in quality from great to strange.

Artificial Intelligence
Sophia, 1st robot who gets citizenship.

Sophia is just a couple of months old. It’s a promising begin for her. It keeps running on misleadingly clever programming. That is always being prepared in the lab. So its discussions will probably get speedier. Its looks will have less blunders, and will answer progressively complex inquiries with more precision.

Mother who brutally killed their own children

Ka Yang

mother
She cooked her child for 2 minutes in microwave.

Imagine hot oil drops falling on your fingers or touching a warmer bar. The agony of getting cooked in a microwave broiler can well be imagined by somebody who has had these encounters. Ka Yang of California consumed her seven weeks old infant in the microwave stove in February, 2012. She let the stove keep running for two minutes and the radiation cooked the kid’s small digestion tracts and stomach. This was confirmed by a pathologist. As of now a mother of four youngsters, how it resulted in these present circumstances is unbelievable. While we as a whole concur that it is mental sickness that leads moms to this point. Protection Attorney says that the mother was experiencing a seizure while she conferred this ghastly demonstration that recolored motherhood. She is a dangerous mother.

Alexandra V. Tobias

mother
She killed her child for disturbing her in playing games.

This lady of 22 incredibly killed her 3-month-old child since he was crying and diverting her-not from some essential count, not from a specialized minute in the kitchen; but rather from playing Farmville on Facebook. This mother is a regular Farmville player. That is ludicrous yet obvious. The Farmville has more than 75 million clients everywhere throughout the world. People have contended that a specific level of clients are dependent on the diversion. Players develop virtual homesteads and win cash through it. Alexandra told the police shook the kid when he would not quit crying. At that point she smoked a cigarette and shook the kid once more. This demonstration could have harmed the child’s cerebrum and caused his demise. In spite of the fact that not a first degree kill, the mother faces long lasting detainment. She can play all the Farmville she needs there.

Stacie Marie Parsons

mother
She killed her 4 year old daughter.

Parsons, a 25 year old mother, admitted of her wrongdoing as she strolled into a police headquarters. Her significant other had discovered the 4 year old little girl in the storage compartment of her auto and he had endeavored to restore her however her condition was basic and froth was streaming out of the mouth. The little girl’s head had been bashed unpleasantly and she inevitably kicked the bucket of extreme injury to the head and chest. Could a mother be desirous of her little girl to this degree? The father asserted that the thought process behind this demonstration was delayed envy yet for a wrongdoing. The main thing that we have in locate is a  4 year old little girl who has been battered by his mother who kept her inside for 9 months. Oh dear! All futile.

Bianca N

mother
She wrapped her infant and left.

Bianca left her four-month-old-little girl in the loft at Sorest while she went to a Halloween party in Munster. Wrapped up and encouraged, the infant lay in the bed for a few days until the point when the mother returned and discovered her dead. She fled to Munster the following day and didn’t return until the point that the cadaver was found by the social administrations. The mother said that she just proposed to go for a couple of hours yet 300 Euros worth of medications thumped her down for a few days and she overlooked her little girl. Nonetheless, it was accounted for that the infant had been deprived for a little while before death and Bianca had supposedly told many individuals that her girl would kick the bucket of cerebrum tumor.

Hu Chen

Arguments with husbands are common but it’s hard to believe that the wife would avenge the argument by hurting the children. 33 year old Hu Chen tossed her 1 year old child young lady before a 40 ton moving truck that pounded her to death. The truck driver couldn’t stop regardless of making a decent attempt as the disturbed mother acted without admonishing. One second from now, the mother grabbed her child, who was six, and tossed him onto the movement. He was protected by a chivalrous bystander who had happened to witness the past tossing of the child young lady. Mental issues appear to be the main judicious response to such unreasonable acts since a mother murdering her own fragile living creature and blood is inconceivable.

Claire Biggs

mother
This addicted women killed her 2 month old infant.

Claire Biggs was an addicted mother who had effectively lost authority to her first youngster on account of the medication propensity. In spite of that, she and her sweetheart were permitted to care for the second infant Rhys Biggs. The mother tormented Rhys in 2009, who wound up in the doctor’s facility with cracked ribs, broken wrist and a broken shoulder. The two month old infant capitulated to the wounds and passed on. The mother, however imprisoned, kept on torment for her wrongdoing as contempt from the prisoners. Nobody loved her and she was a disliked kindred prisoner in view of what she did to her child. Truth be told, Claire was bitten by other prisoners.