ভালবাসতে শিখিনি

আমি এক তুলসীপাতার প্রেমে পড়েছিলাম
যে প্রার্থনা ভক্তি পূঁজো পেতে মত্ত,
আমি এক মসজিদের প্রেমে পড়েছিলাম
যে আতর গোলাপ সুগন্ধিতেই সুরভিত,
আমি এক প্যাগোডার প্রেমে পড়েছিলাম
যে বলেছিলো চোখবুঝে অন্ধকারে ভাবুন আলোকিত,
আমি এক কলঙ্কিনীর প্রেমে পড়েছিলাম
যে দূর থেকেই ভালোবাসা দিয়ে হারিয়ে যেতে চায়
বললো-
মৃত্যুর পর যখন নিষ্পাপ তুলসীপাতা-মসজিদ-প্যাগোডার মতো পবিত্র হবো;তখন ভালোবাসবেন তো?
না! বাসবোনা;
ভালো যে মানুষকেও বাসতে হয় সেটা শিখিনি তো!

স্বৈরাচারীর আর্তি

একদিন আমার সব ছিল, আমিই ছিলাম রাজা

আমার কথা শুনত সবাই, সবাই ছিল প্রজা

অহংকারে মাটিতে মোর, পড়তো নাকো পা

করতাম আমি মনের সুখে, যখন খুশি যা

রাতকে আমি দিন করিতাম, দিন করিতাম রাত

এক ইশারায় বহু মানুষ, করে দিতাম ফাঁত

আমার কথায় আর্মি পুলিশ, গোয়েন্দাদের দল

ভয়ের চোটে উঠত কেঁপে, পড়তো চোখের জল

পাইক-পেয়াদা অনেক ছিল, ছিল অনেক বাড়ি

আমার চলার আগে পিছে, থাকতো শত গাড়ি

কোন দেশের আমন্ত্রণে, আমি সেথায় গেলে

কি যে খুশি হতো তারা, আমায় কাছে পেলে

লাল গালিচা সেরা বাড়ি, দারুন খাবার দিত

আমার সেবা করে তারা, হয়ে যেত প্রীত

সব হারিয়ে নিঃস্ব এখন, জেলখানাতে থাকি

কখন জানি খাঁচা ছেড়ে, উড়াল দিবে পাখি

এখন আমি বুঝে গেছি, আমি কিছুই না

অহংকার সব উড়ে গেছে, মাটিতেই এখন পা

ভুল করেছি ভুল ভেবেছি, ভুলেই জীবন পার

ভুলগুলো কি শুধরে নেয়ার, সময় পাব আর

আর কি আমি মুক্ত হব, স্বাধীন খোলা জীবন পাব?

তোমরা আমায় ক্ষমা কর, একেবারেই চলে যাব

শাসক যারা আছো তারা, কেউ করনা আমার মতো ভুল

নয়ন জলে ভাসবে শেষে, পাবেনা কেউ কূল

বন্ধ জেলে থাকবে একা, রইবেনা কেউ পাশে

স্বৈরাচারী নাম নিয়ে হায়, থাকবে ইতিহাসে

তাই বলি কি সময় আছে, ভাল হয়ে যাও

যা পেয়েছ ধন্য তুমি, সব পেয়েছ ফাও ।।

স্বৈরাচারীর দম্ভ

পেয়েছি অনেক দেয়নি কিছুই, জীবনের লক্ষ্য একটাই

যা পাব শুধু আমিই খাব, খাওয়াবো না কাউকেই

বলবো আমি, শুধুই আমি, আমিই গুরু আমিই নেতা

আমার কথা শুনবি তোরা, হয়ে শুধু নীরব শ্রোতা

আমার খুশিই সবার খুশি, পরাণ খুলে হাসবি

আমার কোনো দুঃখ হলে, নয়ন জলে ভাসবি

আমার সেবা করবি সবাই, রাখবি আমায় সুখে

খুশি হয়ে অল্প কিছু কাঁঠাল পাতা, মারবো ছুঁড়ে মুখে

আমার কথাই শেষ কথা, তোদের কোনো কথা নেই

এমনি কি আর তোদের আমি, এত কাঁঠাল পাতা দেই

রাজার মতো চলবো আমি, সবাই আমার প্রজা

বেয়াদবি করলে তারে, পরপারে পাঠিয়ে দেবো সোজা

মানুষ মারা আমার কাছে, তেমন কিছুই নয়

এমনি কি আর সবাই মোরে, কসাই সেলিম কয়

আমার মতো বড় নেতা, এক পিসও পাবি নাকো খুঁজে

আমি আছি বলেই তোরা, আছিস এতো মৌজে

আমার ছেলের সাত খুন মাফ, সব থাকবি চুপ

কথা বললে ঘাড়ের পিছে, ওমনি খাবি কোপ

আমি আমি, শুধুই আমি, তোরা কেউ নস

এখন থেকে সবাই তোরা, ডাকবি আমায় বস

একার একাকিত্ব

একারকিছু হারানোর দুঃখ নেই, কিছু পাওয়ারও সুখ নেই।
তবুও দুঃখটাকেই ভীষণ ভালোলাগে,
বিরহীভাবে তৃপ্তি পাই।
খুব আপন হয়ে প্রত্যেকটি অনুভবের একক-কে নাড়া দিতে পারে বলে,
হয়তো তাই।
আমি একাই পাল্লা দিয়ে সমানে দৌড়াই
জোরেশোরে নিশ্বাসে হাপাই
যা ইচ্ছে তাই
তাতেই আমি আমায় পাই।

(“শিরোনাম এর জন্যে ধন্যবাদ বাইদ্যানি 🐍 (আশা বিনতে হোসেন) ভালো থাকিস অজানায়, পরপারে যেমন থাকে হারিয়ে যাওয়া সবাই।”)

 

পাপিষ্ঠের অভিমান

পাপিষ্ঠের

আমি দেখেছি তাকে
ক্ষমা না পাওয়ার বিষম যন্ত্রণায় ছটফট করে
বেঁচে থেকে ডুকরে মরতে,
অতি তীব্রতায় পাপী ভুলে যায় তার কী ভুল ছিলো
তবুও সে বেহায়া আর নির্লজ্জের মতো
দুহাত তুলে কতো –
হে প্রভু!
তুমি কী আসলেই করুণাময়!
তাহলে কেনো গভীরে এতো ব্যথা হয়?
তুমি কোথায় মুখ ঘুরিয়ে আছো?
পাপিষ্ঠের চেহারা না দেখলেই বাঁচো!
রাত ফুরয়, অশ্লীল কালো, গভীর নির্জন রাত,
সহস্র শতাব্দী পুরনো
তোমার পুণ্যের ঘরেই হউক প্রভাত।

হিজিবিজি আঁকিবুঁকি আর একটি কবিতা

হিজিবিজি

সব কিছুতেই শিরোনাম থাকতে হবে?
এমন তো কোনো কথা নেই!
এই যে তুমি আমি নামহীন; শিরোনামহীন
শূন্যে ঝুলে থাকা নক্ষত্ররাজির মতো রঙ্গিন
দুলে ছিলাম জন্মানোর আগে
কই? আমাদের তো সমস্যা হয়না!

যেমন সমস্যা হয়না দোকানীর-
খুচরো টাকার বদলে ধরিয়ে দেওয়া একটি লজেন্স,
সেই বহুদূর; বহুদিন ধরে শার্টের জেবে
জমিয়ে রেখে; ভাবে আজ না কাল খাবে,
প্রিয় মানুষের দেওয়া লজেন্স টি ঘিরে
পড়ার টেবিলে বাচ্চাটি খেলাকরে,
কই? তার কোনো সমস্যা হয়না!

যেমন সমস্যা হয়না ভীষণ রাগী মানুষটার-
প্রেমিকের সাথে অভিমান করে শহর ছেড়েছে
দিন মাস করে দুই যুগ পেড়িয়ে গেছে
এখনো তাঁর প্রিয় স্মৃতি নিয়ে বাঁচে,
কাউকে সঙ্গী করেনি
বলে নিঃশ্বাসে তাকেই যখন পাই
তাই আর কাউকে ঠকাইনি।
কই? লীলাকাননের তো সমস্যা হয়না!

যেমন সমস্যা হয়না ছোট্ট বেলার পিতৃবিয়োগের শোক-
মনে না করতে পারা সেই প্রিয় মুখ,
পিতৃতুল্য ভাই-ই তো ছায়ায় অবতীর্ণ হয়
যত ঝড়ঝাপটা – দুঃসময় আসুক,
জীবনের সাদ আহ্লাদ মাটি করে
লাঞ্ছনা-বঞ্চনা-অপমান-প্রাপ্য-অপ্রাপ্যতা সহ্য করে
মা তো আছেন মহানের চেয়ও মহান ভূমিকায়।
কই? তবুও তো দিন যাচ্ছে কেটে!

কিছুতেই সমস্যা হয়না
আবার সমস্যা হয়ে দেখা দেয় শস্যদানায়,
যেখানে তুমি আমি আমরা ভালোবাসার
বেহিসাবি বাঁধনহারায়,
ঈশ্বরের মতো একা, নিঃসঙ্গ, ভবঘুরে থাকায়।

“দূর্বাঘাস” একটি দূর্বাঘাস এর আত্মকাহিনী

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
তাল,তমাল,কদম্ব,হিজল বেয়ে কুয়াশার মত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
আমার’ই বুক ছিঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকা চোরকাঁটার মত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
পথিকের পা পিষে মেঠোপথ ছেড়ে পিচঢালা রাস্তায় রত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
বেলকোনির ফুলেরটব থেকে খোলা মাঠে যত।

একটি দূর্বাঘাস
আমার ও তো ইচ্ছে করে
ঠাকুর-পূজো মন্ডপ ছেড়ে মসজিদ প্রার্থিত।