নতুন বছরে নিজেকে পরিবর্তন করতে যে পরিকল্পনাগুলো করতে পারেন

দেখতে জীবন থেকে চলে এলো আরও একটি পুরনো বছর। আগমন ঘটলো নতুন বছরের। নতুন বছর হল নিজেকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার আর একটি সুযোগ।

অনেকে বলে কাল থেকে সব ঠিক করবো, অনেকে বলে সামনের সপ্তাহে আবার অনেক মানুষ আছে সামনের মাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

তাই নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন।

কি কি দিক দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন তার একটি সাধারণ ধারণা তুলে ধরছি। বাজী ধরে বলতে পারি আপনি অবশ্যই উপকৃত হবেন।

নতুন বছরে নিজেকে নির্দিষ্ট ওজনে আনুন

নতুন

শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে ওজন থাকলেই আপনি একটি স্বাস্থ্যকর দেহের অধিকারী হতে পারবেন।

যারা চিকন তারা কি করলে অথবা কি ভাবে নিজের স্বাস্থ্যকে ঠিক করতে পারবেন তার তালিকা তৈরি করুন।

যারা অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী তারা ব্যায়াম এবং খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন।

নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইলে আপনাকে অনেক দৃঢ় হতে হবে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন বছরের ৪-৫ মাসের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে হবে।

নতুন বছরে পুরনো বদ অভ্যাস ছাড়ুননতুন

 

প্রতিটা মানুষের কিছু না কিছু বদ অভ্যাস থাকে। নতুন বছরে মানুষ অতীতকে ভুলে নতুনের সাথে চলে। তাহলে এই বছর আপনার কোন পুরনো বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন।

সেটা হতে পারে সিগারেট খাওয়া, পান খাওয়া, অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া, আইসক্রিম খাওয়া, নখ কামড়ানো, অযথা বই এ দাগাদাগি করা এমন আরও অনেক কিছু।

একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি প্রতি বছর যদি একটি করেও বদ অভ্যাস ছেড়ে দিতে পারেন তাহলে ১০ বছরে ১০ টা বদ অভ্যাস আপনার থেকে দূরে সড়ে যাবে। ব্যাপারটা কার্যকর করতে পারলে এর ফল আপনি নিজেই অনুভব করতে পারবেন।

বই পড়ুন

নতুন

সবচেয়ে ভালো আর কাছের বন্ধু বলা হয় বইকে। শুধু যে জ্ঞানমূলক আর উপদেশমূলক বই পড়লে মানুষ উপকৃত হয় তা নয়।

আপনার পছন্দসই যেকোনো বই পড়তে পারেন। বই পড়ার জন্য টাকা জমিয়ে বই কিনুন।

কথায় আছে, “বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না”।

নিজের সাথে সব সময় একটি বই রাখুন। ফেসবুক অথবা ইউটিউবে না ঘুরে একটা বইয়ের কয়েকটা পাতা পড়ুন। অভ্যাসটি ৭ দিন মেনে চলুন। অবশ্যই ভালো কিছু পাবেন।

পৃথিবীটা দেখুন

নতুন

ভ্রমণের কথা বলাতে আপনি হয়তো আমাকে মনে মনে গালি দিতে পারেন, এই বলে যে, বেড়াতে গেলে কত টাকা লাগে ধারণা আছে?

তবে সত্যি ভাই, ঘুরতে চাইলে মন লাগে মানি (টাকা) নয়।

পৃথিবী ঘুরতে হয়তো অনেক ঝামেলা আছে। পাসপোর্ট করতে হয়, অনেকে বাইরে ঘোরা নিরাপদ মনে করেন না। তাছাড়া বাসা থেকে অনুমতি নেয়ার একটা ব্যাপার আছে।

আমাদের বাংলাদেশেই আছে অনেক অনেক দেখার মতো জায়গা। আপনি যদি শুধু ঘুরতে যেতে চান তাহলে টাকা কোন ব্যাপার না।

টাকা উড়াতে হবে ঘুরতে গেলে এই ধারণা ভুল। আর যদি পাসপোর্ট, ভালো অঙ্কের টাকা এবং বাসার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আপনি ঘরে বসে থাকেন তাহলে আমাকে কিছু টাকা ধার দেন আমি ঘুরে আসি।

জীবনটা অনেক ছোট, পৃথিবীটা অনেক বড়। সময় নষ্ট না করে প্রতি বছর কোথাও না কোথাও ঘুরতে যান।

টাকা জমান

নতুন

টাকা হাতে আসলে থাকে না, শুধু খরচ হয়ে যায়? তাহলে আপনি অনেক বড় ভুল করছেন।

প্রতিদিন কিছু করে হলেও টাকা জমান। যারা চাকরিজীবী তারা নিজেদের জন্য ব্যাংকে একটা একাউন্ট খুলে টাকা জমান শুরু করুন।

নতুন বছরে এটা খুব ভালো একটা উদ্যোগ হবে।

বিশ্বাস না হলে আপনার এই পরিকল্পনা আরও কয়েকজনের সাথে শেয়ার করে দেখতে পারেন।

ঘুরতে গেলে যখন টাকা নিয়ে চিন্তা হবে অথবা কোন জরুরী কাজে এই টাকাগুলোই আপনার বিপদে পাশে থাকবে।

সামাজিক মাধ্যমে কম সময় দিন

আমরা এমন এক প্রজন্মে বাস করছি যেখানে মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক ছাড়া কিছু চিন্তা করা যায় না।

আপনার কোন বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ যদি বলে তার ফেসবুক একাউন্ট নেই তাহলে হয়তবা আমার আপনার বিশ্বাস হবে না। কিন্তু সেই ব্যক্তিটি যে কত ভালো আছেন তা আপনি জানেন না।

সামাজিক মাধ্যম আছে, থাকবে কিন্তু সারা দিন সামান্য সময় পেলেই যদি সেখানেই মুখ ডুবিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আপনি ভাই মানুষ বটে তবে সভ্য নন।

অনেকে আছে কারো সাথে কথা বলার সময় অথবা খাওয়ার সময়ও হাতে ফোন নিয়ে থাকে।

তারা হয়তো জানেনা এটা কত বড় মুদ্রাদোষ।

মুরব্বীরা বেয়াদবি বললে অস্বীকার করার উপায় নেই।

সুতরাং বিশেষ কোন প্রয়োজন অথবা একান্ত অবসর সময় ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।

মানুষকে সাহায্য করুন

মানুষকে সব সময় টাকা দিয়ে সাহায্য করতে হবে এমন নয়।

আপনি চাইলে মানুষকে তথ্য দিয়ে, বিভিন্ন উপায় বলে সাহায্য করতে পারেন।

অনেকে আছি যারা ৫ টাকার জন্য সবজিওয়ালা অথবা রিক্সাওয়ালার সাথে ঝগড়া করি।

ভিক্ষুককে টাকা না দিয়ে এদেরকে ৫/১০ টাকা বেশি দিন। নতুন বছরে এই অভ্যাসটাও গড়ে তুলতে পারেন।

বিনয়ী হন

আমরা সভ্য জাতিতে বসবাস করলেও বিনয়ী হতে ভুলে গেছি। বিনম্র মানুষদের সবাই অনেক পছন্দ করে।

না বুঝেও অনেক সময় আমরা উঁচু গলায় কথা বলি মা বাবার সাথে, বড়দের সাথে।

নিজের এই ভুল এক সময় অভ্যাসে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

আপনারও এই সমস্যা থাকলে এখনি বের হয়ে আসুন। নম্র এবং বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না হবে না যদি আপনি চান

আমার একফ্রেন্ড বরাবরি ভাবসাব নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে রাস্তায় হাটতো। ফুটপাথের চেয়ে গাড়ি চলাচল রাস্তা ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলো বেশি (যদিও ফুটপাথ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই দোকানিদের দখলে, হেঁটে যাওয়ার সুযোগ নাই) মাঝেমধ্যে রিকশার সাথে ছোটখাটো ধাক্কা লাগতো, গাড়ি হর্ণ দিলেও মাঝেমাঝে সরে পাশ দিতো না। এমন ছোটছোট দুর্ঘটনা থেকে যে বড় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয় তা ও মানতে নারাজ। বলতো

-আমি আমার সঠিক অবস্থানেই আছি।

-দোস্ত তুই তোর সঠিক অবস্থানেই আছিস মানলাম। সব ড্রাইভার কি একিরকম হয় নাকি, ভাল মন্দ তো থাকবেই। যদি তোর পায়ের উপর দিয়ে চাকা ঘুরায় কি করবি?

-ধরে পিটাইমু!

-সেটাও মানলাম আচ্ছা করে মারলাম। তোর যে পা ভাঙলো সেটার কি হবে? চিকিৎসা করিয়ে ভাল হলেও আগের মত কি এই যন্ত্রে কাজ করবে?

আগে নিজের পা টাকে বাঁচা, নিজেকে বাঁচা তারপর বাকি সব।

বুঝলাম সব ড্রাইভারই ভাল, কিন্তু সব ভাল ড্রাইভারই সব সময় ভাল মন মেজাজ নিয়ে ড্রাইভ করেনা।

সে নাহয় ক্ষতিপূরণ/মাইর খেয়ে উসুল দিলো। পায়ের উসুলটা কেমনে করবি?

তাই চালকের সচেতনা এবং ট্রাইফিক আইনের কথা না ভেবে নিজেকে বাঁচানোর সচেতনতাটা মূখ্য।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল পা গেলে পা লাগানো যাবে। কিন্তু যদি আপনার বেপরোয়া ভাবে রাস্তা পারাপার আর হাঁটা চলার জন্য আপনার জীবনটা চলে যায় তখন কি কোন বিচার করে লাভ হবে? আপনার জীবনটা কি ফিরে পাওয়া যাবে? আপনার পরিবারের যে ক্ষতি করে গেলেন তা কি কখন কোন ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যাবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে যদি না পারেন তাহলে ঠিক ভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে রাস্তায় চলুন।

অনেক মোটরসাইকেল চালক আছেন যারা হেলমেট পরাকে খ্যাত অথবা অরুচিশীলতা ভাবেন এবং বলেনও। কিন্তু এই হেলমেটের কারণেই আপনার জীবনটা বেঁচে জেতে পারে।

দেখা যায় অধিকাংশ বাইক চালক দুর্ঘটনায় মারা যান এই হেলমেটের অভাবে।

কিছু বাইক চালকদের আমার ব্যক্তিগত ভাবে অপছন্দ। এরা ভাবে কোন চিপা জায়গা পেলেই যাওয়া যায়।

এক বার ভাবে না বড় দুইটা বাস যদি একসাথে চলে আর যদি তাকে খেয়াল না করে তাহলে তার কি হবে? তাদের কাছে পরিবারের দুঃখ কষ্ট কি মানে রাখে কেউ আসলে বলতে পারবে না।

ঠিক এমনি একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল এক বাইক চালকের সাথে। তার বুকের সাথে ছিল তার ছোট্ট শিশু। দুই বাসের মাঝে ছিল সে। দুই গাড়ি যখন এক সাথে টান দিল তখন সে চিৎকার করা শুরু করল। বাচ্চাটা বাবার বুকে ছিল বলে বেঁচে গেলো। বাকিটা বুঝে নিন।

তারপরও দুর্ঘটনা যে হচ্ছে না তা না। কিন্তু দুর্ঘটনা তো কমানো যায়। যদি আপনি এখুন সচেতন থাকেন।

বিঃদ্রঃ এর মানে এই নয় যে বেপরোয়া ড্রাইভারদের সাপোর্ট করা।

শুধু নিজের না সব সময় পরিবারের কথা ভেবে রাস্তায় চলাচল করুন তাহলে আর কোন মায়ের আহাজারি দেখতে হবে না টিভিতে।