একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না হবে না যদি আপনি চান

আমার একফ্রেন্ড বরাবরি ভাবসাব নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে রাস্তায় হাটতো। ফুটপাথের চেয়ে গাড়ি চলাচল রাস্তা ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলো বেশি (যদিও ফুটপাথ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই দোকানিদের দখলে, হেঁটে যাওয়ার সুযোগ নাই) মাঝেমধ্যে রিকশার সাথে ছোটখাটো ধাক্কা লাগতো, গাড়ি হর্ণ দিলেও মাঝেমাঝে সরে পাশ দিতো না। এমন ছোটছোট দুর্ঘটনা থেকে যে বড় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয় তা ও মানতে নারাজ। বলতো

-আমি আমার সঠিক অবস্থানেই আছি।

-দোস্ত তুই তোর সঠিক অবস্থানেই আছিস মানলাম। সব ড্রাইভার কি একিরকম হয় নাকি, ভাল মন্দ তো থাকবেই। যদি তোর পায়ের উপর দিয়ে চাকা ঘুরায় কি করবি?

-ধরে পিটাইমু!

-সেটাও মানলাম আচ্ছা করে মারলাম। তোর যে পা ভাঙলো সেটার কি হবে? চিকিৎসা করিয়ে ভাল হলেও আগের মত কি এই যন্ত্রে কাজ করবে?

আগে নিজের পা টাকে বাঁচা, নিজেকে বাঁচা তারপর বাকি সব।

বুঝলাম সব ড্রাইভারই ভাল, কিন্তু সব ভাল ড্রাইভারই সব সময় ভাল মন মেজাজ নিয়ে ড্রাইভ করেনা।

সে নাহয় ক্ষতিপূরণ/মাইর খেয়ে উসুল দিলো। পায়ের উসুলটা কেমনে করবি?

তাই চালকের সচেতনা এবং ট্রাইফিক আইনের কথা না ভেবে নিজেকে বাঁচানোর সচেতনতাটা মূখ্য।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল পা গেলে পা লাগানো যাবে। কিন্তু যদি আপনার বেপরোয়া ভাবে রাস্তা পারাপার আর হাঁটা চলার জন্য আপনার জীবনটা চলে যায় তখন কি কোন বিচার করে লাভ হবে? আপনার জীবনটা কি ফিরে পাওয়া যাবে? আপনার পরিবারের যে ক্ষতি করে গেলেন তা কি কখন কোন ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যাবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে যদি না পারেন তাহলে ঠিক ভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে রাস্তায় চলুন।

অনেক মোটরসাইকেল চালক আছেন যারা হেলমেট পরাকে খ্যাত অথবা অরুচিশীলতা ভাবেন এবং বলেনও। কিন্তু এই হেলমেটের কারণেই আপনার জীবনটা বেঁচে জেতে পারে।

দেখা যায় অধিকাংশ বাইক চালক দুর্ঘটনায় মারা যান এই হেলমেটের অভাবে।

কিছু বাইক চালকদের আমার ব্যক্তিগত ভাবে অপছন্দ। এরা ভাবে কোন চিপা জায়গা পেলেই যাওয়া যায়।

এক বার ভাবে না বড় দুইটা বাস যদি একসাথে চলে আর যদি তাকে খেয়াল না করে তাহলে তার কি হবে? তাদের কাছে পরিবারের দুঃখ কষ্ট কি মানে রাখে কেউ আসলে বলতে পারবে না।

ঠিক এমনি একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল এক বাইক চালকের সাথে। তার বুকের সাথে ছিল তার ছোট্ট শিশু। দুই বাসের মাঝে ছিল সে। দুই গাড়ি যখন এক সাথে টান দিল তখন সে চিৎকার করা শুরু করল। বাচ্চাটা বাবার বুকে ছিল বলে বেঁচে গেলো। বাকিটা বুঝে নিন।

তারপরও দুর্ঘটনা যে হচ্ছে না তা না। কিন্তু দুর্ঘটনা তো কমানো যায়। যদি আপনি এখুন সচেতন থাকেন।

বিঃদ্রঃ এর মানে এই নয় যে বেপরোয়া ড্রাইভারদের সাপোর্ট করা।

শুধু নিজের না সব সময় পরিবারের কথা ভেবে রাস্তায় চলাচল করুন তাহলে আর কোন মায়ের আহাজারি দেখতে হবে না টিভিতে।

 

ফেইসবুক, আইডি হ্যাক, মিথ্যা হয়রানী আর কিছু মৃত্যু! কবে থামবে এসব?

ইদানীংকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা চোখে পরার মত সেটি হলো অমুকের নামে তমুক একটা ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলেছে, সেই আইডির মাধ্যমে আপত্তিকর স্ট্যাটাস, ছবি এবং হয়রানী মূলক কার্যক্রম করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের কয়েকটা বিশাল ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে যারা সাধারণত নারী,শিশু এবং মানুষের জাস্টিস ও হিউম্যানিটি নিয়ে কাজ করে, এককথায় অলাভজনক গ্রুপ গুলোতে মোটামুটি ৬৫% হেল্প চাওয়া হয় এই ফেইক আই ডি নিয়ে।
এর ভিকটিম ১০০% ই নারী।

সাধারণত এই সব আইডি বেশির ভাগই খুলে থাকেন ভিকিটিমের/নারীর পরিচিত কোন পুরুষ, প্রাক্তন প্রেমিক, প্রেমে ব্যর্থ হওয়া বালক এবং ফেইসবুকে লাইক, কমেন্ট ও জনপ্রিয়তা পিপাসী কিছু চতুর্থ লিঙ্গের পাবলিক। চতুর্থ লিঙ্গ মানে হলো তারাই আকাশ-বাতাস-পাহাড় পর্বত নাম দিয়ে যারা আইডি খোলেন।

আচ্ছা আপনারা আমাকে এখন পর্যন্ত এমন কেউ আছেন বলতে পারবেন যে, অমুক মেয়ে তমুক ছেলের নামে আই ডি খুলেছে? আরেহ্ ভাই উনারাতো উনাদের নিজের আসল নামেই আইডি খুলতে ভয় এবং অস্বস্তিতে ভুগেন, তাহলে আপনার নামে আই ডি খুলার সময় কই? যুগের চাহিদায় অনেকটা সৎসাহস নিয়েই “ঝরা পাতা” “শুকনা পাতা” “মরা পাতা” ছদ্মনামে নিজেদের আই ডি ইউজ করেন, মা বাবার দেওয়া শখের নামখানা গোপন রেখে!
একবার ভাবুন তো আপনার নিজের নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা করা হলে আপনি কি করবেন?
অতঃপর আপনি ‘কুদ্দুস বিন আবুল লস্কর’ শুকনাপাতা আর মরা পাতার আইডিতে ফ্রেন্ড হয়ে উনার ছবিটা করলেন চুরি (অনুমিত না নিয়ে ডাউনলোড)। আপনি এখানেও থেমে নেই, সেই ছবিনাখানা দিয়ে ওপেন করলেন ‘মরাপাতার’ গোপন করা নাম ‘সখিনা চৌধুরী’ কে ‘সেক্সি সখিনা’ নামে। ফেইসবুক, ফেইক আইডি আর ফটোশপের ভীরে সখিনার জীবন প্রায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রেন্ড লিস্টের এক আপু উনার সব ছবি blur (দৃষ্টির অস্পষ্টতা/ঝাপসা) করে আপলোড করেন।

এইতো সেদিন বিবাহিত এক আপুর পুরনো প্রেমিক তার উপর জেদ মেটাতে এমনি কুরুচিপূর্ণ কাজ করে বসেছে। সেই ফেইসবুক ফেইক আই ডি বন্ধ করতে কিছু মন্তব্যের সম্মুখীন আর প্রশ্ন জেগেছে, নীচে হুবহো তুলে ধরলাম-

Mr. Asif Pdb
1st of all biyer aage lutuputu korle emon e hoy… ekhane amader kichu korar nei… bcz apottikor chobi or close moment 2joner sommotitei hoice…so…………

আমি
একদম ঠিক বলেছেন ভাই।
আচ্ছা কারো যদি লুতুপুতুর ভবিষ্যৎ  ফলাফল সম্পর্কে ধারণা থাকতো সে কি কিবা আপনি আমি কি লুতুপুতু করতাম?

Miss. Rathree
lutuputu…what type of language it is?r u educated? relation sobai kore bt sei valobasar manuahta emon amanush hobe eta keu bujhte parena..help chaoa hoile help na. korte parle ajaira comnts kotbenna…@asif

Mr. Asif Pdb
Mohin Rahman Mah… kono kichu korar aage in future ta ki hobe seta bujha uchit..jodi sustho mostisker hoy ar ki… vabiya korio kaj , koria vabio na..

আমি
Asif Pdb
পৃথিবী তে সবাই ঠিক আপনার মত বুদ্ধিমান হয়ে জন্মায় না। অনেকের বুদ্ধির উদয় হয় কয়েকটা ধাক্কা কিবা এক্সিডেন্ট এর পর।

তাই বলে কি সে ক্ষমা পাবেনা?
তার কি ভুলটা বুঝার পর নিজেকে শোধরাবে নাহ্?

একটা ছেলের বেলায় যদি এই ঘটনা ঘটতো তাহলে আপনি আমি কোনো গায়েই লাগাতাম না! কেনো জানেন? আমাদের সমাজটা পুরুষের পাপসিদ্ধ সমর্থিত। এখানেই প্রব্লেম টা।
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্যে।

Mr. Asif Pdb
Mohin Rahman Mahi… asole khoma sei paoyar joggo je nijer oporad ta bujhte pare and vul ta songsodhon kore… kichu kichu khetre manus khoma paoyar joggo holeo khoma na korai better…bcz se onnor sathe next time emon korbena seta kew bolte pare na… and bro ami buddhiman na.. choto mostisker choto choto vabna n jototuku bujhar khomota ache seta thekei bola…. onek somoy amra jeta dekhi seta sotti hoy na… asol kotha kichu pordar aralei thake..

আমি
তার মানে আপনার কথায় এই দাঁড়ালো যে-
মেয়েটার এখন ক্ষমা না করাই শ্রেয়,  সে যাকে ভালোবাসতো (লুতুপুতু) তাকে বিয়ে নাকরে মস্তবড় অপরাধ করেছে তাও মানলাম।

মিথ্যা
মিথ্যা ভালোবাসার জালে পরে কত মেয়ে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন

তাহলে লুতুপুতুর সুবিধা নেওয়া ছেলের কাছে দুটা প্রশ্ন?

– সে কেনো মেয়েটাকে বিয়ে করেনি?
– সে কেনো মেয়েটা ছেলেটাকে বিয়ের কথা অবহিত করার পর লুতুপুতুর সুবিধা নিয়ে ভেগেছিলো?
– সে এখন কিসের আশায়  পুরনো স্মৃতির সাহায্যে মেয়েটাকে হয়রানি করছে? নিশ্চই পরকিয়ার ফাঁদে নতুন করে লুতুপুতুর সুবিধাদি নেওয়ার জন্যে নয়? অন্য কোন মহান উদ্দেশ্যে!

এসব সবই মেনে নিলাম-
ছেলেটা কি পারবে মেয়েটার অনাগত সন্তানসহ তাকে ঘরে তুলতে? এবং তাকে নিয়ে সারাজীবন কাটাতে?
ভরণপোষণ এর দায়িত্ব নিতে?
জানি আপনার আমার কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই।

তাহলে কেনো আপনি অন্যের পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করে গোটা পরিবারের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার আপনি কে?
কে আপনি?

একটু বলবেন প্লিজ?

এগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যাবে আসলে আমরা নারীর প্রতি কতটুকু সহনশীল এবং সাহায্য পরায়ণ। এতো গেলো নারী উত্যক্তকরণ সাথে পৈশাচিক আনন্দ নেওয়া। আমরা যারা ধর্মের প্রতি অধিক দুর্বল, আমাদের এই অধিক দুর্বলতাকেই পুঁজি করে ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক সহিংসতা আর ধর্মীয় বিরোধ। যা আমরা বিগত ক মাসের ঘরবাড়ি জ্বালানো-পুড়ানো এমনকি খুনাখুনির মতো ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।

আগুন
ফেইসবুকের একটি ছোট মিথ্যা স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে ধর্মের নামে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ‘কোন জায়গায় কী হলো, ফেসবুক নামের কোন জাগার কে কে লেখিল, হামরা এগুলোর কিছুই জানি না। হামার ঘর মানুষজন আসি কেনে পুড়ি দেলে?’ এ প্রশ্ন ঘরপোড়া অমুন্য রায়ের।

আশাকরি আপনারা নিজেরাই এর ভালো সমাধান জানেন। এখনি সচেতন হউন, নিজের অবস্থানটায় সৎসাহস নিয়ে ঝেড়ে উঠুন।
সুখী সুন্দর হউক আপনার জীবন।

® MOHiN rahman Mahi

অল্পের জন্য বেঁচে গেলো শখের ফোনটা

ঢাকার শহরের মধ্যে মোহাম্মদপুর প্রিয় একটা জায়গা। প্রিয় কিছু মানুষের বসবাস আর অধিক যাতায়াতে পরিচিতির কারণে, এমনটা সবার বেলায় ই হয়। সিলেট থেকে নির্ধারিত পাঁচ ঘন্টার জার্নির কথা বলে, সাড়ে সাত ঘন্টায় বাস পৌঁছালো ঢাকা।বি.আর.টি.সি. এর দ্বিতল বাস ধরে মহাখালী থেকে মোহাম্মদপুর আসছি, ঝুলে ঝুলে বেহালে! সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা, পিক আওয়ার অফিস শেষে ঘরে ফেরার তাড়া সবার। তাই বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকুই যে পেয়েছি ভাগ্যের ব্যাপার।

আড়ং এর মোড় আসার পর মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্যে বাসের সংরক্ষিত ১৩ টি আসনের মধ্যে একটি আসন খালি হলো। খালি সিটের পাশেই দাঁড়ানো আছি আমি, সংরক্ষিত আসনে একটা মেয়ের পাশে বসতে ইতস্তত বোধ করছি, কারণ মেয়েটাকে ডিঙিয়ে ভেতরে বসতে হবে অথবা উনাকে বলতে হবে একটু ভেতরে চাপেন, বসবো! এইভাবে ইতস্তত ভাব নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি মিনিট পাঁচেক। ভদ্র মহিলাই (মেয়ে) আমাকে বলছেন- দাঁড়িয়ে কেনো? বসুন এখানে! উনি উঠে আমাকে জানালার পাশে বসার সুযোগ দিলেন কারণ একটু পরেই উনি নেমে যাবেন। আমিতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি মার্কা অনুভূতি নিয়ে আসন গাড়লাম, বাসে জানালা পাশের সিট সবারই প্রিয়। পকেট থেকে মুঠোফোন টা বের করে বরাবরের মতো কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শুনা শুরু।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলো আজকাল যোগাযোগের বিশাল একটা মাধ্যম হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে। আর সাধের স্মার্টফোনের কথা আর নাইবা বললাম। ডাটা (ইন্টারনেট) চালু করে দেখলাম অনেকগুলো ম্যাসেজ এসেছে বন্ধুদের, সবাই চাকুরীর পরীক্ষা দিতে এসেছে, তাই কে কোথায় আছে লোকেশন জানতে চাচ্ছে। আসাদগেট ছেড়ে টাউনহল মসজিদ রোড এসে বাস থেমে আছে অনেকক্ষণ। মনে মনে ভাবছি ঢাকা শহরের কিছু পাবলিক বাসের মধ্যেই অভার ফোনে অফিস সারে বোধয়, পাবলিক প্লেসে এতকথা কিভাবে বলে লোক গুলো? বিরক্তি নিয়ে একটার পর একটা গান পরিবর্তন করছি। রোডের মাঝখানে আমাদের বাস ঘেঁষে কে জানি হেটে আসছে, সামনের লুকিং গ্লাসে এক পলক দেখলাম।

বাসের চাকা ঘুরতেই কে জানি আমার হাতে থাকা ফোনে ঝাপটা দিয়েছে! মস্তিষ্ক জানান দিলো সেই লোকটা, যে একটু আগে পায়চারি করছিলো। আমিও হাতের ফোনটা আমার পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে তৎক্ষণাৎ ধমকি দিয়ে ফিরতি ঝাপটা দিলাম বেচারার হাতটা ধরার জন্যে। সৌভাগ্যক্রমে তার, দুর্ভাগ্য আমার হাতটা ধরতে পারিনি! পেছন থেকে লোক চেঁচিয়ে জিগ্যেস করলেন- ফোনটা কি নিতে পেরেছে!!? (জিগ্যেস ভাব খানা এমনঃ ফোনটা নিলে উনি খুশি হতেন) বললাম- না! হাতটা ধরতে পারিনি, নইলে ঝুলিয়ে রাখতাম কিছুক্ষণ।

একইসাথে দুটা বিষয় কাজ করছে মনে- ছিনতাইকারী ফসকে যাওয়ার আফসোস এবং ফোন টা না হারানোর আনন্দ। কাউকে যদি জিগ্যেস করেন- মনে করুন আপনি বিশা হাজার টাকা আর বিশ হাজার টাকার একটা ফোন হারিয়েছেন। কোনটার জন্যে আপনার আফসোস বা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মনে করেন? নির্দ্বিধায় উত্তর দেবে ফোনের জন্যে।

যদি ফোনটা হারানো যেতো যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতাম-

→সবার কাছ থেকে যোগাযোগের দিক দিয়ে সাময়িক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতাম। (“এখান থেকে ফোন করা যায়” এই সাইনবোর্ড বাংলাদেশ থেকে বিলীন) এখন আর পরিবারের ফোন নাম্বার ব্যাতিত কেউ দুনিয়ার নাম্বার মুখস্থ রাখেনা।

→গুগল ম্যাপ দেখে দেখে ঢাকায় মাস্তানি করে ঘুরাঘুরি বন্ধ হয়ে যেতো।

→বিশেষ বিশেষ নোট, ইমেইলিং, মোবাইল ব্যাংকিং এরকম দরকারি অনেক কিছুর জন্যে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাথে অলস একা সময় কাটানোর কথা বলার অপেক্ষা রাখেন।

কিছু কথাঃ
আমরা যারা দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ঢাকা শহরে আসি, স্বাভাবিক ভাবেই এ অনেক বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকিনা। কারণ ঢাকার মতো আপনার আমার শহরে হয়তো ছিনতাইয়ের সাথে পরিচিত না। নিচের এ কথা গুলো হয়তো আপনার একটু উপকারে আসতে পারে।

** ঢাকা শহরে বাসে জানালার পাশে বসে মোবাইল ফোন অপারেট করবেন না। যদি আমার মতো ঘাউড়া হোন তাইলে কইরেন। কারণ ছিনতাইকারী কে ফিরতি ঝাপটা দেওয়ার হিতায়িত জ্ঞান সবার থাকেনা। (মজার বিষয় হচ্ছে এই লিখাটাও বাসে জানালার পাশে বসে লিখছি)

** আপনি শখের বসে সুন্দর একটা দৃশ্য ধারণ করার জন্যে পকেট/ব্যাগ থেকে ফোন টা নিয়ে মোবাইল গ্রাফি করতেই পারেন। কিন্তু এটাও বিপদজনক, আপনার ফোনটা নেওয়ার জন্যে দূর থেকে ঢিল মেরে কিবা কোনো অস্ত্র ছুড়ে মারতে পারে। চোখ কান খোলা রেখে হাত এবং ফোনের মায়া ছাড়তে পারলে ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

** জানালার পাশে সিটে বেখেয়ালি কিবা না ঘুমানোই ভালো।

** যাত্রাপথে আপনার মালামাল এবং নিজের খেয়াল রাখুন।

** অপরিচিত লোকের দেয়া কিছু খাওয়া যেতে পারে যদি সে আর আপনি যদি একই খাবার একসাথে খান।

একটুখানি অসাবধানতা আপনাকে বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারে। শুভ হউক আপনার আমার প্রতিটি যাত্রা দূরের কিবা কাছের। সুন্দর এবং সুস্থ্যভাবে ফিরে যাই আপনজনের কাছে।

MOHiN rahman Mahi