স্বপ্নের চাকরিটা কি পেয়েই যাবো? ইন্টারভিউ কি ভালো হবে? (First Job hacks)

পড়াশোনা শেষ পর্যায়, এখন সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করবে, কি করবে এখন?

চাকরি, না অন্য কিছু? কবে করবে? কিভাবে করবে? সরকারী চাকরি? না বেসরকারি চাকরি?

এই সব এর ভেতর আমরা ভাবি প্রথম চাকরির কথা, কিভাবে পাবো আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত First Job। আর চাকরি যেহেতু করতে চাই তাই প্রথমেই মাথায় আসে ইন্টারভিউ। আজকে আমি কিছু ট্রিক্স বলবো কিভাবে প্রথম ইন্টারভিউ সফল করা যায়।

ইন্টারভিউ
চাকরি যখন দরজায়

নিজের কথা গুলো কে আগে মনের ভেতর গুছিয়ে নেবেন।

“কেন আপনাকে নেবো?” এই প্রশ্নটা বেশির ভাগ সময় করা হয়। মাথা ঠাণ্ডা রেখে উত্তর দেবার চেষ্টা করবেন।

৪ থেকে ৫ টি মূল পয়েন্ট তৈরি করে নিন নিজের মাথায়।

নিজেকে জিগ্যেস করুন –

“আপনি কি এই পদের জন্য যোগ্য?”

“আপনি কি অন্য কেন্ডিডেটদের তুলনায় বেশি কুয়ালিফাইড?”

উত্তর গুলো নিজের ভেতর মিলিয়ে নিলেই দেখবেন কত সহজ হয়ে গেছে উত্তর টা আপনার জন্য।

সুন্দর করে নিজেকে উপস্থাপন করা

ইন্টারভিউ
নিজেকে পরিপাটি রাখা খুব জরুরী

 

কথায় বলে না “প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী”। ইন্টারভিউ যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে সুন্দর, পরিস্কার এবং রুচিসম্মত পোশাক পরতে হবে। সুন্দর পোশাকের মানে এই না যে পোশাকটি দামী কিংবা নতুন হতে হবে। আপনার পুরাতন কোন হালকা রঙের শার্টকেও ধুয়ে আয়রন করে সুন্দর একটি লুক দেয়া যায়। এটা আপনার রুচি বোধকে প্রকাশ করে। আপনি কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন তা আপনাকে কোন রকম প্রশ্ন করা ছাড়াই  আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দিতে সক্ষম। সুতরাং নিজেকে উপস্থাপন করার ব্যাপারে আপনি অসচেতন হয়ে থাকলে একেবারেই চলবে না। আপনার অঙ্গভঙ্গিতেও আনতে হবে আমূল পরিবর্ত,  কোনভাবেই জুবুথুবু হয়ে ইন্টারভিউয়ারের সামনে বসা চলবে না। এই ছোটখাটো ডিটেইলসগুলো হয়ত আপনার কর্মদক্ষতার প্রতিফলন ঘটাবে না কিন্তু এসব ছোটখাটো ব্যাপারে আপনার অবহেলা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চেহারার অভিব্যক্তি

হাসি মাখা মুখ দেখতে কে না ভালোবাসে? তবে এটা ভাববেন না শুধু হাসি মাখা মুখ দেখে আপনাকে চাকরি দেয়া হবে। সুন্দর অভিব্যক্তি একজন মানুষকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। যদি আপনি কোন কিছুর উত্তর না জানেন তাহলে ঘাবড়ে না গিয়ে সুন্দর করে বলুন আর যদি পারেন তাহলে গুছিয়ে উত্তর দিন। কখনই বেশি কথা বলবেন না। ওভার কনফিডেন্ট হবেন না।

ভাষার দক্ষতা

ভালো একটা চাকরির জন্য অবশ্যই আমাদের কম পক্ষে ২টা ভাষা খুব ভালো করে জানতে হবে, একটা আমাদের নিজের ভাষা(অনেকেই বলবেন সবাই নিজের ভাষা জানেন, জানি আর বলি অনেক পার্থক্য, অনেক মানুষ নিজের শহরের আঞ্চলিক ভাষার টান ছাড়তে পারে না) এবং আর একটি এমন ভাষা যেটা সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। ইংলিশ ভাষা আমারদের ২য় মাতৃ ভাষার মতো। ভালো একটা চাকরি র জন্য অবশ্যই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বাংলা এবং ইংলিশ এ কথা বলা জানতে হবে।

শুধু ভালো করে বলতে পারেন, কিন্তু আপনার কারো কথা শোনার ক্ষমতা খুব কম। তাহলেও কিন্তু হবে না।

সুন্দরভাবে কথা বলতে পারার ক্ষমতা নির্ভর করে মনোযোগের সাথে ওপর ব্যক্তির শুনতে পারার ক্ষমতার উপর। আপনি যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যেতে পারেন তবে অপর ব্যক্তির কথা শোনার মানসিকতা আপনার না থাকে তবে এখন থেকেই নিজেকে ভাল  শ্রোতা হিসেবে গড়ে তুলুন। ভাল বলতে পারার ক্ষমতা আপনাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে  যাবে কিন্তু আপনার টেকনিক্যাল স্কিলগুলোতে যদি কোন ঘাটতি থেকে থাকে তবে  সেগুলো এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে না। সুতরাং আপনার ভাল বলতে পারার ক্ষমতা এমন ভাবে ব্যবহার করুন যাতে করে সেটি আপনার কর্মদক্ষতাকে আরও বিকশিত করে।

যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যাশা করুন

ইন্টারভিউ
নিজের উপর বিশ্বাস রাখা খুব জরুরী

ভাল কাজের দাম আপনি পাবেন তবে আপনাকে প্রথমে আপনার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং শুরুতেই সব ধরণের সুযোগ সুবিধা একসাথে আশা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সবাই সবচেয়ে ভালটাই আশা করে, কিন্তু অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি যোগ্য কিনা। যোগ্য না হলে সেটা নিয়ে মন খারাপ করে থাকার কোন মানে হয় না। যোগ্যতা অর্জন করুন। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, পরিশ্রম করলে কখন তা বিফলে যায় না। সুতরাং পরিশ্রম করতে থাকুন।

যারা এখন চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা ইন্টারভিউ দিবেন তাদের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।