২০১৭ সালে ক্রিকেট বিশ্বের আলোচিত ঘটে যাওয়া ঘটনা

চলে যাচ্ছে ২০১৭। ২০১৭ সালে ক্রিকেট বিশ্বে ঘটে গেছে নানা রকম ঘটনা। সবগুলো ঘটনা একসাথে করে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের রেকর্ড

ক্রিকেট
জুনে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে প্রথম বারের মত শিরোপা জিতলো পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের কেনিংটন ওভালের একতরফা ফাইনালে পাকিস্তান ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতবধ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করে।

খুব কম বয়সী তরুণ ফখর জামান (১১৪), আজহার আলী (৫৯) ও মোহাম্মদ হাফিজের (৫৭*) দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে তুলে পাকিস্তান। জবাবে মোহাম্মদ আমির (৩/১৬), হাসান আলির (৩/১৯) দুর্ধর্ষ বোলিং ঝড়ে ভেঙে পড়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ভারত। ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১৫৮ রানে প্যাকেট হয়ে যায় ভারত। গ্রুপ পর্বে ভারতের সাথে এমন হারের পর বিভিন্ন মহলে পাকিদের সামর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিলেন।

ওভালে সেই ভারতকে উড়িয়ে স্বপ্নের শিরোপা জিতে নিয়ে অনেক বড় জবাব দিলো সরফরাজের পাকিস্তান দল। আসরে পাকিস্তান মোটেও ফেভারিট ছিলো না, অন্য দিকে বিরাট কোহলির ভারত আগের বারের চ্যাম্পিয়ন্স ছিলো। পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফেভারিট হিসেবে রাখেনি কিন্তু সেই পাকিস্তান তাদের চিরো শত্রু ভারত কে লজ্জায় ডুবিয়ে তাদেরই হাতে ওয়ান্ডে ফর্মেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব। সেটিও এমন দু-জনের পারফর্মের উপর নির্ভর করে টুর্নামেন্টের আগে অনেকেই যাদের নামও জানতো না। বিরাট কোহলি, ইয়ন মরগান, স্টিভেন স্মিথ, এবিডি ভিলিয়ার্সদের পিছু হটিয়ে পাকিদের সাফল্যের নেপথ্যের নায়ক ফখর জামান ও হাসান আলি নামের দুই নবীন খেলোয়ার।

আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের টেস্ট মর্যাদা অর্জন

আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড জুনের শেষ সপ্তাহে টেস্ট মর্যাদা পায়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভায় আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে পূর্ণ সদস্যের সম্মান দেওয়ায় টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ১০ থেকে ১২-তে পোঁছায়।লন্ডনে আইসিসির বার্ষিক সভায় সবার সম্মতিক্রমে দেশ দুটিকে পূর্ণ সদস্যের সম্মান দেয়া হয়। এর আগে ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল।

মেলবোর্নে ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা লংগার ভার্সনের দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিনস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুইয়ে ও বাংলাদেশের সঙ্গে কুলীন ক্লাবে যুক্ত হয়েছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।

ক্রিকেট আয়াল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিউট্রন তার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইরিশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্যই এটা একটা সুসংবাদ। এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য আমি আইসিসি এবং সব সদস্য রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাই।’

এছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘খেলাটির সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট এবং যেটা আমাদের সকলের স্বপ্ন ছিল।’ ওয়ারেন ডিউট্রন বলেন, ‘আমরা সকল বিশ্বকাপ খেলেছি,  এ সময়ে আমরা কিছু স্মরণীয় ফল করেছি। তবে টেস্ট খেলাটা হবে বিশেষ কিছু।’

অন্যদিকে আফগানিন্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী শফিক স্ট্যানিকজাই বলেন, ‘আফগানিস্তানের মতো একটি জাতির জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি এবং স্মরণীয় অর্জন।’

টি ২০তে মিলার ও রোহিতের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার ও ভারতের রোহিত শর্মা এ বছরই আন্তর্জাতিক টি ২০ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এই কীর্তি গড়েন মিলার এবং ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার সঙ্গে ভাগ বসান রোহিত। আইপিএলে নভোজিৎ সিং সিধু মিলারকে কিলার উপাধি দিয়েছিলেন। মিলার যে বাংলাদেশী বোলারদের কিলার হবে তা কে বা সেটা জানে। দীর্ঘদিন ফর্মে না থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার এই হার্টহিটার ফর্মে ফিরতে বেছে নিয়েছিলেন টাইগারদের। মিলার টি ২০ ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে তার নাম লেখিয়েছেন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। মিলারের এমন ঝড়ে বয়ে যায় তরুণ বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের উপর দিয়ে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের এক ওভারেই ৫টি ছয় মারে মিলার।

এই ঝড় বাংলাদেশের উপর বইয়ে দিয়ে ডেবিট মিলার গড়েন টি ২০তে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকারই রিচার্ড লেভি ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর ফাফ ডুপ্লেসিস ৪৬ বলে করেছিলেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ডে তিন ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন কয়েকদিন আগেই। টি ২০ তেও তিনি ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে মিলারের পাশে নাম লেখান। ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা ৪৩ বলে ১১৮ রান করে। এমন ঝড়ো ইনিংসে ১২ চারের সঙ্গে ১০ ছক্কা হাঁকান রোহিত শর্মা। টি ২০তে ভারতীয় এই ওপেনারের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দুটি সেঞ্চুরির মালিক ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, এভিন লুইস, কলিন মুনরোও।

লারাকে পেছনে ফেলে ‘অধিনায়ক’ কোহলির ইতিহাস

ক্রিকেট

‘অধিনায়ক হিসেবে’ টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিরাট কোহলি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দিল্লীতে প্রথম ইনিংসে ২৪৩ রানের ম্যারাথন ইনিংস উপহার দিয়ে ব্রায়ান লারাকে টপকে যান ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ওয়ান্ডার বয়’।অধিনায়ক হিসেবে তিনি ৬ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সাবেক ক্যারিবিয়ান গ্রেটকে পেছনে ফেলেন।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছরে ২৩৫ রান করেছিলেন। এটি ছিল সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ভারতীয়  অধিনায়ক হিসেবে। তিনি নিজের রেকর্ডকেই আরও এগিয়ে নিয়েছেন।

ছয় ডাবল সেঞ্চুরিতে কোহলি ছুঁয়ে গেলেন ভারতীয় রেকর্ডও। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ছয় করে ডাবল করেছিলেন বীরেন্দর শেবাগ ও শচীন টেন্ডূলকার।

আগের টেস্টেই একমাত্র ইনিংসে নাগপুরে করেছিলেন ২১৩ রান। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিাহসে পর পর দুই ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হলেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। ১৯২৮ ও ১৯৩৩ সালে প্রথম দুই দফায় এমন কীর্তি গড়েছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়ালি হ্যামন্ড, ১৯৩৪ সালে ব্র্যাডম্যান, ১৯৯৩ সালে বিনোদ কাম্বলি, ২০০৭ সালে কুমার সাঙ্গাকারা ও ২০১২ সালে মাইকেল ক্লার্ক।

কোহলি-আনুশকার আলোচিত বিয়ে

ক্রিকেট

২২ গজে কোহলির ব্যাটিং ঝড়ে কাঁপছে বিশ্ব ক্রিকেট। জীবনের ইনিংসেও কাপিয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি।অনেক নাটকীয়তার পর ভারতীয় এই অধিনায়ক বলিউড কুইন আনুশকা শর্মাকে জীবনসঙ্গী করেছেন।তিনি বিয়ের জন্য ইতালির ঐতিহাসিক শহর রোম থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে ছবির মত সুন্দর তাস্কানিকে বেঁছে নিলেন বহুল আলোচিত এই প্রেমিকযুগল। বিরাট-আনুশকা দুজনের নাম মিলে হয়ে গেছেন বিরুষ্কা। বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ১১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে। সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় তার একদিন আগে মিলানের তাস্কানিতে। সেখানে শুধু দুই পরিবারের নিকটবর্তী মানুষেরাই উপস্থিত ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, মুম্বাইয়ে বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনায় নিমন্ত্রিত অতিথির তালিকায় ছিলেন ক্রিকেট, বলিউড ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিখ্যাত সব ব্যক্তি।

শর্মিলা ঠাকুর ও টাইগার পাদৌতির পর ক্রিকেট এবং বলিউডের সেরা জুটি বলা হচ্ছে বিরাট ও আনুশকা জুটিকে। সংবাদ মাধ্যম গুলো বলছে, ‘ওয়েডিং অব দ্য ইয়ার ২০১৭’। তাদের জুটি এতটাই আলোচিত যে, বিরাট এবং অনুশকার জুটিও এখন একটা ‘ব্র্যান্ড’।

যারা শুধু বলিউডের রেড কার্পেট বা ক্রিকেট মাঠের সবুজ গালিচা নয়, দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিজ্ঞাপনী দুনিয়াতেও। জনশ্রুতি আছে, একটি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে প্রথম আলাপ হয়েছিল বিরাট এবং অনুশকার। প্রথমে বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়েছিল সম্পর্ক। ২০১৩ সালে ছিল সেই বিজ্ঞাপনের শূটিং।

টি ২০ থেকে ম্যাশের বিদায়

ক্রিকেট

শ্রীলঙ্কা সফরে হঠাৎ করেই টি ২০ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাঙ্গালী ক্রিকেটপ্রেমীরা ম্যাশের এই ঘোষনা শুনে এর প্রতিবাদে রাস্তায় পর্যন্ত নেমে পড়েন। ম্যাশের এই পদত্যাগের পেছনে সাবেক কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহের হাত রয়েছে বলে খবর শোনা যায়।  কিন্তু এই ব্যাপারে ম্যাশ নিজে কিছুই বলেননি।  বিপিএলে ম্যাশের উদ্ভাসিত অল-রাউন্ড পারফর্মেন্সের পর অবসর ভাঙ্গার দাবি ওঠে। তবে বাংলাদেশের এই কিংবদন্তী সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে টেস্টে ফেরার ইঙ্গিত দেন।

বিপিএল এ মাশরাফির অর্জন

ক্রিকেট

৫ বার অনুষ্ঠিত হওয়া বিপিএল আসরে ৪ বারই বিজয়ী হয়েছে মাশরাফির দল। এবার সেই ধারা বজায় রেখে মাশরাফি বিজয় এনে দিলেন রংপুর রাইডার্স কে। দলটির মালিকপক্ষ বসুন্ধরা গ্রুপ মাশরাফিকে রেঞ্জ রোভার দিতে চেয়েছিল। বেশকিছু দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছিল যে, নড়াইল সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।

এরপরই নড়াইলের জন্য রংপুর রাইডার্স কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি চান মাশরাফি।

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

মাশরাফি তাঁর কথা রাখলেন, এ্যাম্বুলেন্স পেল নড়াইলবাসী

সবার প্রিয় মাশরাফি দেশের জন্য কি করেছেন এবং করছেন তা আমরা সবাই জানি। সম্প্রতি বিপিএল এর আসরে আবার চমক দেখালেন আমাদের অধিনায়ক। পর পর ৪ বার বিপিএল এর কাপ হাতে নিলেন তিনি।

যে দলেই তাকে নেয়া হয় সেই দলেরই যেন ভাগ্য পরিবর্তন করে দেন তিনি।

এবার সেই ধারা বজায় রেখে মাশরাফি বিজয় এনে দিলেন রংপুর রাইডার্স কে। দলটির মালিকপক্ষ বসুন্ধরা গ্রুপ মাশরাফিকে রেঞ্জ রোভার দিতে চেয়েছিল।

বেশকিছু দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছিল যে, নড়াইল সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।

এরপরই নড়াইলের জন্য রংপুর রাইডার্স কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি চান মাশরাফি।

অবশেষে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অধিনায়ককে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে নড়াইলের ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছে রাইডার্সের মালিকপক্ষ।

চলতি বছরেই নড়াইলবাসীর উন্নয়নে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক গড়ে তুলেন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন।

এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নড়াইলের মানুষের জন্য নানা উন্নয়নমূলক কাজ করার ইচ্ছা আছে তার।

হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের ছবি দেওয়া হয়েছে মাশরাফির ফেসবুক পাতায়ও,

‘বিপিএল টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের শুরুর আগেই অধিনায়ক মাশরাফি নরাইলবাসীর জন্য একটা এম্বুলেন্স চেয়েছিল “রংপুর রাইডার্স”-র কর্ণধার সাফওয়ান ভাই ও সিইও ইশতিয়াক ভাইয়ের কাছে।

নড়াইল বাসী বেশ কিছুদিন যাবত কিছু সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত এর মধ্যে একটি এম্বুলেন্স ছিল অত্যধিক প্রয়োজনীয় তালিকার সর্ব প্রথমে।

ফাইনাল খেলা শেষ হবার ৭ দিনের মাথায় “রংপুর রাইডার্স” মাশরাফির গড়া “নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন”-র নিকট হস্তান্তর করলো।’

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কেউ জরুরী দরকারে এই এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে পারবে।

 

ছোট্ট ফিল এর স্মরণে, ২৫ বছর বয়সে আটকে যাওয়া ছেলেটি

তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সতীর্থরা আজও যেই নাম টি স্মরণ করে তার পুরো নাম ফিলিপ হিউজ, বন্ধুরা আদর করে ডাকতো ফিলি, হিউজি।

ফিলিপ জয়েল হিউজ, ৩০ নভেম্বর ১৯৮৮ সালের নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তর উপকূলের একটি ছোট্র শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন কৃষক, সে কলা চাষ করেন। দুই ভাই এবং এক বোনের ভেতর ফিল ছিলেন মধ্যম। খুব শান্ত মানুষ এই হিউজ। সবার খুব কাছের আদরের, বোনের কাছে হিরো। ক্রিকেট ছিল ফিল এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তাই তো মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০০৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার আগে নিউ সাউথ ওয়েলসের সাথে দুটি  সিজনের জন্য খেলেন এবং ​​বা-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে  উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিং করতেন।

ফিল হিউজ
পরিবারের সাথে ফিল

এই সব এখন শুধু ইতিহাস। ২০১৪ সালের জন্ম দিন এর ঠিক তিন দিন আগে (২৭ নভেম্বর) সবাইকে কাঁদিয়ে ছোট্ট ফিল চলে যায় না ফেরার দেশে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে!! এই হাহাকার টা যেন সবার থাকবে। বন্ধুদের কাছে খুব বেশি প্রিয় ছিল। হাসি মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ রাগ করতে পারতো না। সবাই তাকে ছোট্ট ফিলি বলে ডাকতো। তাইতো শেষ বিদায় দেবার সময় থেকে এখন ও সবাই ফিল কে মনে করে চোখের পানি আটকে রাখতে পারে না।

কি হয়েছিলো ঐ দিন

ফিল হিউজ
যেই মুহূর্তে ফিল এর বল লাগে, এবং পড়ে যায়

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা-শেফিল্ড শিল্ডের একটি ম্যাচে মঙ্গলবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিউ সাউথওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন হিউজ। ৬৩ রানে অপরাজিত থাকার সময় প্রতিপক্ষের বোলার শন অ্যাবোটের একটি বাউন্সারই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু। শন অ্যাবটের একটি বাউন্সার হুক করতে গিয়ে মারাত্মক এই চোট পান ফিল। মাথার পিছন দিকে কানের ঠিক নিচে বল লাগে, সাথে সাথে ছিঁড়ে যায় মাথায় রক্ত যাওয়ার প্রধান শিরাটা। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল ফিল। তারপর যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো। সেই পড়ে যাওয়া ফিল আর কখন দাঁড়াতে পারল না। হাসপাতালে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্র পাচার করা হয়। রাখা হয়েছিল কৃত্রিম কোমায়। সেই যে জ্ঞান হারালো আর ফিরলো না। মৃত্যুকে ঠেকানো গেলো না। ২৭-১১-২০১৪তে মারা গেলেন ফিলি। মৃত্যুর সময় হিউজের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা, বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন।

২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গের তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ২৬ টেস্টে ৩২.৬৫ গড়ে ১৫৩৫ রান করা এই ক্রিকেটারের আছে তিনটি সেঞ্চুরি আর সাতটি ফিফটি। অর্জনটা খুব ভালো ছিল। অভিষেক সিরিজেই ডারবানে পরপর দুটি সেঞ্চুরি করে দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন হিউজ। তবে ফর্মের  ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে অস্ট্রেলীয় দলের কখনোই নিয়মিত হতে পারেননি।  ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলা হিউজ ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে নির্বাচকদের বিবেচনায় ছিলেন। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের চোট তাঁর দলে ফেরা মোটামুটি নিশ্চিতই করে দিয়েছিল। অধিনায়ক মাইকেল এর সাথে সম্পর্কটা অনেক গাঢ় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মেই ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা শেষ অবধি তাঁকে নিয়ে গেল সব জাগতিক আশা-আকাঙ্খা আর প্রত্যাশা-প্রাপ্তির উর্ধ্বেই। এখন তাকে মনে করে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা। অধিনায়ক স্মিথ অ্যাশেজ খেলার সময় ৬৩ রান করার পর যেখানে হিউজ পড়ে গিয়েছিল সেখানে গিয়ে মাটিতে চুমু খেয়েছিল। এখন হয়তো তাদের ১০০ করলেও এতোটা উত্তেজিত লাগেনা যতটা লাগে ৬৩ রান করলে।

ফিল হিউজ
সতীর্থদের সাথে ফিল

ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

 

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, অস্ট্রেলিয়া

না, না, না। শান্তিতে ঘুমাও ফিলিপ হিউজ।

শচীন টেন্ডুলকার, ভারত

ফিলের মৃত্যুর খবরে অত্যন্ত দুঃখিত। ক্রিকেটের জন্য এটা খুব দুঃখের দিন। তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

মাহেলা জয়াবর্ধনে, শ্রীলঙ্কা

খুব খারাপ খবর। ফিলের আত্মার শান্তি কামনা করি। তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা রইল।

যুবরাজ সিং, ভারত

ফিল নেই! বিশ্বাস হচ্ছে না। ক্রিকেটের জন্য একটি কালো দিন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

এবি ডি ভিলিয়ার্স, দক্ষিণ আফ্রিকা

হৃদয় বিদারক! খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি দিন। ফিলিপ হিউজ,  আমরা তোমাকে মিস করবো। আমার প্রার্থনা ও ভাবনা তার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে রইল।

গ্রায়েম স্মিথ, দক্ষিণ আফ্রিকা

আমি খুবই শোকাহত ও বাকরুদ্ধ। তার পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদের জন্য প্রার্থনা রইল।

ম্যাথু হেডেন, অস্ট্রেলিয়া

সুখে থেকো ছোট ভাই…..সৃষ্টিকর্তা চিরদিন তোমাকে তার হাতের তালুতে রাখুক। হিউজের পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

ব্রেট লি, অস্ট্রেলিয়া

হিউজের চলে যাওয়ায় আমি নির্বাক।

শহীদ আফ্রিদি, পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের দুঃখজনক মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি।

ক্রিস গেইল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

শান্তিতে ঘুমাও ফিলিপ হিউজ। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। তোমাকে আমরা মিস করবো।

বিরাট কোহলি, ভারত

ফিলের মৃত্যুর খবরে শোকাহত এবং মর্মাহত। ক্রিকেটের জন্য খুবই বাজে একটি দিন। ঈশ্বর তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দিক।

ছবিতে ফিল(১৯৮৮-২০১৪ )

ফিল হিউজ
ছোটো বোন মেগোর সাথে ফিল

 

ফিল হিউজ
ছোটো ফিল বড়ো ভাই জেসন এর সাথে।

 

ফিল হিউজ
এগারো বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলে ফিল

 

ফিল হিউজ
২০০৭ এ সিডনিতে অভিষেক

 

ফিল হিউজ
টেস্ট অভিষেক ২০০৯ তে

 

ফিল হিউজ
২০১৩ তে ওডিআই তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে

 

ফিল হিউজ
২০১৪ সেই বল……………………………

 

ফিল হিউজ
শেষ বিদায় ফিল……

 

 

ক্রিকেট বিশ্ব মিস করেবে একজন ফিল কে। তার সেই হাটু গেরে মারা কাভার ড্রাইভগুলো। বেঁচে থাকো ফিল হিউজ সবার হৃদয়ে। পঁচিশ  বছরেই আটকে থাকুক তোমার তারুণ্য।

ছবি সংগ্রহঃ 
www.emergencypedia.com
www.dailytelegraph.com
www.theaustralian.com
www.Rediff.com